যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন প্রকাশের পর তিনি সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। প্রতিবেদনের সহলেখক কেটি রজার্সকে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ‘কুৎসিত’ বলে আক্রমণ করেছেন।
প্রতিবেদনে ট্রাম্পের বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্তভিত্তিক বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। ট্রাম্প বুধবার বলেন, “ব্যর্থ হতে চলা নিউইয়র্ক টাইমসের ওই জঘন্য লোকগুলো আবারও তাদের কাজ শুরু করেছে।” তিনি পুরুষ সহলেখক ডিলান ফ্রেডম্যানের নাম উল্লেখ না করলেও নারী সাংবাদিক কেটি রজার্সকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছেন। ট্রাম্পের পোস্টে লেখা ছিল, “প্রতিবেদক কেটি রজার্সকে নিয়োগই দেওয়া হয়েছে আমার সম্পর্কে কেবল বাজে কথা লেখার জন্য। সে একজন তৃতীয় শ্রেণির সাংবাদিক; ভেতর ও বাইর—উভয় দিক থেকেই কুৎসিত।”
এছাড়া ট্রাম্প তার স্বাস্থ্যের বিষয়ে নিজেকে প্রতিরক্ষা জানিয়ে বলেন, তিনি বিভিন্ন শারীরিক ও কগনিটিভ পরীক্ষায় দারুণ ফলাফল দেখিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, জনমত জরিপে তিনি সর্বকালের সেরা অবস্থানে আছেন, যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে এটি বাস্তবতার সঙ্গে মিলছে না। ট্রাম্প লিখেছেন, “এমন একটি দিন আসবে, যখন আমারও শক্তি ফুরিয়ে যাবে, তবে এখনো সেই সময় আসেনি।”
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অক্টোবরের শুরুর দিকে ট্রাম্প এমআরআই স্ক্যান করিয়েছিলেন। তবে কেন পরীক্ষা করা হয়েছে তা এখনও প্রকাশিত হয়নি। ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বাইডেনের সমালোচনা করে দাবি করেন, ট্রাম্প প্রশাসন সবসময় ‘খোলামেলা ও স্বচ্ছ’।
ট্রাম্প নিউইয়র্ক টাইমসকেও আক্রমণ করেছেন এবং পত্রিকাটিকে “শিগগিরই বন্ধ হতে চলা প্রতিষ্ঠান” বলে উল্লেখ করেছেন। তবে পত্রিকাটি বর্তমানে লাভজনক অবস্থানে রয়েছে এবং তাদের ডিজিটাল গ্রাহকসংখ্যাও বাড়ছে। ট্রাম্প নিউইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগে মামলা করেছেন, তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন মামলাটি দুর্বল এবং সম্ভবত খারিজ হবে।
পত্রিকাটি এর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। একজন মুখপাত্র বলেন, “দ্য টাইমসের প্রতিবেদনটি নির্ভুল ও তথ্যভিত্তিক। ব্যক্তিগত আক্রমণ বা বাজে নামে ডাক সত্যকে বদলাতে পারবে না। আমাদের সাংবাদিকরা বর্তমান প্রশাসনের সংবাদ সংগ্রহে কখনো পিছপা হবেন না।” তিনি আরও বলেন, “কেটি রজার্সের মতো দক্ষ ও নিবেদিত সাংবাদিকরা প্রমাণ করেন, স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যম কিভাবে জনগণকে তাদের সরকার ও নেতাদের ভালোভাবে বোঝাতে সাহায্য করে।”





