গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মুসলিম নারী ও শিশুর ওপর সংঘটিত ধর্ষণসহ নারীর প্রতি সহিংসতার প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে মানববন্ধন করেছে ‘শাহবাগ বিরোধী ঐক্য’। 

শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে বক্তারা ধর্ষণের দ্রুত বিচারসহ পাঁচ দফা দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, দেশে নারীর প্রতি সহিংসতা ও শিশুর প্রতি নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। সাম্প্রতিক সময়ের নৃশংস ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাগুলো সমাজকে আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলেছে। 

তারা অভিযোগ করেন, ‘ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বরং অনেক সময় ভুক্তভোগীকেই দায়ী করা হচ্ছে, যা গভীরভাবে নিন্দনীয়।’

বক্তারা বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন কোনো ধর্ম, বর্ণ বা গোষ্ঠীর বিষয় নয়—এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ। এই অপরাধীর একমাত্র পরিচয় সে একজন অপরাধী। তাই কোনোভাবেই ধর্মীয় পরিচয় দিয়ে এই অপরাধকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। 

তারা দ্রুততম সময়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের দীর্ঘসূত্রিতা বা প্রভাবশালীর হস্তক্ষেপ না ঘটানোর আহ্বান জানান।

বক্তারা আরও বলেন, আমরা দেখতে চাই না কোনো মা বা বোন আতঙ্কে দিন কাটাক, কোনো শিশুর শৈশব ধর্ষকের হাতে রক্তাক্ত হোক। আমরা চাই নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক।

যে পাঁচ দাবি জানান বক্তারা

১. গাজীপুরসহ সারাদেশে সংঘটিত ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুত বিচারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

২. সব ধরনের শিশু ও নারী নির্যাতনের বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্বল্পতম সময়ে সম্পন্ন করতে হবে।

৩. মেয়েশিশু ও নারীদের সুরক্ষায় সমাজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নজরদারি বাড়াতে হবে এবং আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে।

৪. ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা করে যেকোনো অপরাধকে ‘অপরাধ’ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে, যেন প্রকৃত অপরাধীরা ধর্মীয় বা গোষ্ঠীগত পরিচয়ে আড়াল হতে না পারে।

৫. নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কার্যকর, সমন্বিত ও বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

শাহবাগ বিরোধী ঐক্যের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, নারী ও শিশুর নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। 

বক্তারা সবাইকে আহ্বান জানান, ‘এসো, আমরা সকলে মিলে এই বর্বরতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হই, প্রতিটি শিশু ও নারীর জন্য গড়ে তুলি নিরাপদ, সুন্দর ও ভীতিমুক্ত বাংলাদেশ।’