বাতাসের মান দ্রুত খারাপ হওয়ায় শ্বাসযন্ত্রের রোগ বাড়ছে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই ফুসফুস দুর্বল, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে উঠছে। প্রথমে হালকা কাশি বা সামান্য শ্বাসকষ্ট দেখে অনেকে ভাবেন সর্দি-কাশি বা অ্যালার্জি। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এসব উপসর্গ সিওপিডিরও লক্ষণ হতে পারে। এই রোগে ফুসফুসের বাতাস চলাচলের পথ ধীরে ধীরে সংকুচিত হয় এবং শরীরে কার্বন–ডাই-অক্সাইড জমতে থাকে।

সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাতাসে সূক্ষ্ম দূষণকণার মাত্রা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি। এসব কণা শ্বাসনালিতে জমে কোষের ক্ষতি করে। ফলে প্রদাহ, শ্বাসকষ্ট, শুকনো কাশি, অ্যালার্জি এবং ঘন ঘন ঠান্ডা-জ্বরের মতো সমস্যা দেখা দেয়। রাস্তায় বের হলে ধুলো আর যানবাহনের ধোঁয়া রোগীদের অবস্থাকে আরও খারাপ করে দেয়।

চিকিৎসকদের মতে, দূষিত পরিবেশে সিওপিডি রোগীদের নিয়ম মেনে চলা ছাড়া উপায় নেই। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো রাখা, ধূমপান থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা এবং প্রয়োজন হলে ইনহেলার ব্যবহার করা জরুরি।


কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন :

কাশি দীর্ঘদিন থাকা, রাতে কাশির জন্য ঘুম ভেঙে যাওয়া

সিঁড়ি ওঠা-নামায় শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ

হঠাৎ তীব্র শ্বাসকষ্ট অনুভব করা

সর্দি-কাশি বারবার হওয়া

খুব দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যাওয়া


কী কী মেনে চলবেন :

প্রতিদিন হাঁটাহাঁটি ও হালকা ব্যায়াম, বিশেষ করে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম

কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার যেমন ভাত, রুটি, আলু ও শস্যদানা

সকালের নাশতায় ওটস বা ডালিয়া

নিয়মিত আমলকি খাওয়া, যা ভিটামিন সি-তে সমৃদ্ধ

ভিটামিন-এ এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার

ধুলা-ধোঁয়া এড়িয়ে মাস্ক ব্যবহার

ধূমপান সম্পূর্ণ বর্জন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দূষণ কমানো ও সুরক্ষামূলক অভ্যাস বাড়ানোই এখন ফুসফুস বাঁচানোর প্রধান উপায়।