পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকত দীর্ঘদিন ধরেই লাল কাঁকড়া ও অন্যান্য স্থানীয় প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। তবে সমুদ্রের পানি বৃদ্ধি, বন উজাড় এবং মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে লাল কাঁকড়ার সংখ্যা ক্রমেই কমছে।

সৈকতের পূর্বদিকে গঙ্গামতি ও কাউয়ারচর এলাকায় পর্যটক বিচরণ এখনও নিরাপদ হলেও মোটরসাইকেল চালানো ও কাঁকড়া ধরে ছবি তোলার কারণে লাল কাঁকড়ার বিচরণক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় জেলে ইব্রাহীম জানান, “আগে অসংখ্য লাল কাঁকড়া থাকতো, এখন মানুষের কর্মকাণ্ডে সংখ্যা কমে গেছে।”

লাল কাঁকড়া সংরক্ষণের উদ্যোগ হিসেবে সৈকতের পশ্চিম প্রান্ত লেম্পুর বন এলাকায় বন বিভাগ গাছের ডালপালা দিয়ে কাঁকড়ার আশ্রয়স্থল তৈরির কাজ চালাচ্ছে। বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা কে এম মনিরুজ্জামান বলেন, “সমুদ্র ভাঙনের কারণে বন এবং লাল কাঁকড়া বিপন্ন। যানবাহন চলাচল রোধে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। সরকারী সহযোগিতা ও স্থানীয় সচেতনতা অপরিহার্য।”

উপকূল পরিবেশ আন্দোলন কুয়াকাটা (উপরা) সভাপতি কে এম বাচ্চু বলেন, “২০২১ সালে লাল কাঁকড়া ও কচ্ছপ সংরক্ষণের জন্য আলাদা অঞ্চল ঘোষণার দাবি জানিয়েছিলাম। সাময়িক উদ্যোগ হলেও টেকসই হয়নি। সরকারের কঠোর পদক্ষেপ এখন জরুরি।”

গবেষকরা বলছেন, লাল কাঁকড়া উপকূলীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। তারা মৃত উদ্ভিদ খুঁড়ে মাটিকে উর্বর রাখে, পানির শোষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং নতুন গাছ জন্ম দিতে সহায়তা করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “লাল কাঁকড়ার আবাসভূমি ধ্বংস হলে পুরো বাস্তুসংস্থার ওপর প্রভাব পড়বে।”

ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশের গবেষণা সহকারী মো: বখতিয়ার রহমান জানান, ২০২১ থেকে ২০২২ সালের ইকোফিশ-২ প্রকল্পের আওতায় কুয়াকাটা সৈকতে বেড়া স্থাপন করা হয়। বেড়ার ভিতরে কাঁকড়ার সংখ্যা বাহিরের তুলনায় প্রায় ১৯ গুণ বেশি, এবং সেখানে তাদের আকার, রঙ ও সংখ্যা সবই ভালো থাকে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, বন উজাড়, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কুয়াকাটা সৈকতের লাল কাঁকড়া ও বনের সবুজ বেষ্টনী সংকটের মুখে। কার্যকর সংরক্ষণ ও সচেতনতা ছাড়া উপকূলীয় পরিবেশ ও পর্যটন ক্ষেত্র হুমকিতে পড়বে।