আল্লাহ তাআলা মানুষ ও জিনজাতিকে সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তাঁর ইবাদতের জন্য। এই ইবাদতের কেন্দ্রবিন্দু হলো তাওহিদ—অর্থাৎ আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস। ইসলামের মৌলিক শিক্ষা অনুযায়ী, আল্লাহকে একমাত্র স্রষ্টা, পালনকর্তা ও উপাস্য হিসেবে মানা এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক না করাই হলো তাওহিদের মূল অর্থ।
\r\nপবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “আমি জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি কেবল আমার ইবাদতের জন্য।” (সুরা জারিয়াত: ৫৬)। এ আয়াত থেকেই স্পষ্ট হয়, মানবজীবনের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হলো একত্ববাদে বিশ্বাস স্থাপন করা।
\r\nইসলামের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, নবী করিম (সা.) মক্কায় দীর্ঘ সময় ধরে মানুষকে প্রথমেই তাওহিদের দিকে আহ্বান জানান। নামাজ, রোজা ও অন্যান্য ফরজ বিধানের আগেও তিনি মানুষকে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত না করার শিক্ষা দেন। ইয়েমেনে প্রেরণের সময় মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.)-কে তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন—প্রথমে মানুষকে আল্লাহর একত্ববাদের দাওয়াত দিতে।
\r\nহাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট করে বলেছেন, বান্দার ওপর আল্লাহর অধিকার হলো—তারা কেবল আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক করবে না। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি হলো—যারা শিরক থেকে বিরত থাকবে, তাদের তিনি শাস্তি দেবেন না।
\r\nইসলামী শিক্ষায় শিরককে সবচেয়ে বড় গুনাহ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহ শিরক ক্ষমা করেন না; তবে এর চেয়ে ছোট গুনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন (সুরা নিসা: ৪৮)। রাসুল (সা.)-ও সতর্ক করে বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার স্থাপন করে মৃত্যুবরণ করে, তার পরিণতি জাহান্নাম।
\r\nইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, একজন মুসলমানের ঈমান তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাওহিদকে আঁকড়ে ধরে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যার শেষ কথা হবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
\r\nইসলামী আকিদা অনুযায়ী, তাওহিদের তিনটি মৌলিক দিক রয়েছে—
\r\n১) রব হিসেবে আল্লাহকে এক মানা (তাওহিদুর রুবুবিয়াহ),
\r\n২) ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে এক মানা (তাওহিদুল উলুহিয়াহ),
\r\n৩) আল্লাহর নাম ও গুণাবলিতে তাঁকে এক মানা (তাওহিদুল আসমা ওয়াস সিফাত)।
এই তিনটির যেকোনো একটিতে ব্যত্যয় ঘটলে ঈমান অসম্পূর্ণ হয়ে পড়ে। ইসলামী আলেমরা বলেন, দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতার একমাত্র পথ হলো—তাওহিদের ওপর অবিচল থাকা, আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা এবং শিরক থেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে থাকা।





