দুই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে হামাস ও ইসরায়েল। এই চুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়তেই গাজা উপত্যকার খান ইউনিসে উৎসবে মেতে ওঠে মানুষ। ভোররাতের আঁধারেও রাস্তায় নেমে আসে নারী-পুরুষ, শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত। কেউ নেচে, কেউ গেয়ে, কেউ হাততালি দিয়ে উদযাপন করেন বহু প্রতীক্ষিত শান্তির এই ঘোষণা।
রয়টার্সের প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন মানুষ ছোট একটি দলে গান গাইছেন ও উল্লাস করছেন। স্পিকার থেকে বাজছে সুর, আর শিশুরা তাতে তালি দিচ্ছে আনন্দে। খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালের কাছেও ভোররাতে এমন উদযাপনের দৃশ্য দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা খালেদ শাআত বলেন, “দুই বছরের হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসযজ্ঞের পর এই মুহূর্ত আমাদের জন্য ঐতিহাসিক। ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘদিন ধরে এই শান্তির অপেক্ষায় ছিল।”
খান ইউনিসের আরেক বাসিন্দা ওয়েল রাদওয়ান এই চুক্তির কৃতিত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। তিনি বলেন, “যারা যুদ্ধ থামাতে এবং রক্তপাত বন্ধে অবদান রেখেছেন—যদি তা কেবল মুখের কথাও হয়—তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।”
স্থানীয় আবদুল মাজিদ আবদ রাব্বো রয়টার্সকে বলেন, “পুরো গাজা উপত্যকাই খুশি। শুধু আরব বিশ্ব নয়, গোটা দুনিয়াই এই রক্তপাতের অবসানে আনন্দিত।”
তবে উদযাপনের মাঝেও গাজাবাসীর মনে রয়ে গেছে শঙ্কা। গাজার সাংবাদিকরা সিএনএনকে জানান, চুক্তির খবর অনেকের কানে এখনো পৌঁছেনি, কারণ উপত্যকায় ইন্টারনেট সংযোগ খুবই দুর্বল। তাছাড়া গাজা সিটিতে এখনো বোমা বর্ষণ চলছে—বিশেষ করে সেই এলাকায়, যেখানে গত মাসে ইসরায়েল স্থল অভিযান চালিয়েছিল।
গাজা সিটির বাসিন্দা মোহাম্মদ আল-জারু বলেন, “মঙ্গলবার দিনভর এবং রাতজুড়ে বিমান হামলা হয়েছে। বুধবারও নিচ দিয়ে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখেছি।”
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় ৬৭ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন এক লাখ ৬৯ হাজারের বেশি মানুষ। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ চাপা পড়ে আছেন, ফলে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
গত সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের এক স্বাধীন তদন্তে প্রথমবার বলা হয়, গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়েছে ইসরায়েল। তবে ইসরায়েল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
তবুও গাজার মানুষদের আশা, এই যুদ্ধবিরতি তাদের জীবনে অন্তত কিছুটা শান্তি বয়ে আনবে—যদিও তারা জানেন, এই শান্তি এখনো খুব নাজুক।





