দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ২২৯টি ঝুঁকিপূর্ণ সরকারি ভবনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হল ও আল বেরুনী হলকে রাজউক অতি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করলেও সেখানে এখনো শিক্ষার্থীরা থাকছেন। ২০২৩ সালে তিন মাসের মধ্যে ভবন ভেঙে ফেলার সুপারিশ করা হলেও কোনো পদক্ষেপই বাস্তবায়ন হয়নি। শুধু এই দুটি হল নয়, রাজধানীর আরও ৪২টি ভবন ভেঙে ফেলার এবং ১৮৭টি ভবনকে রেট্রোফিটিং করার সুপারিশও একই অবস্থায় রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি ভবনগুলোর এমন পরিস্থিতি হলে বেসরকারি ভবনের অবস্থা আরও উদ্বেগজনক।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সোহেল আহমেদ বলেন, ভূমিকম্পের পর হলে পরিদর্শনে বড় কাঠামোগত ত্রুটি পাওয়া যায়নি। তবে ভবনগুলো পুরোনো হওয়ায় এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মীর মশাররফ হোসেন হল নিয়ে ইতিমধ্যে একটি কমিটি কাজ করছে। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীরা এখনো হলে থাকায় ভবন ভেঙে ফেলার বদলে রেট্রোফিটিং করাই বেশি বাস্তবসম্মত হবে। ইউজিসি ও বুয়েটকে কাঠামোগত মূল্যায়নে যুক্ত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক অবস্থান মাঝারি ঝুঁকিতে থাকায় অতিরিক্ত আতঙ্কের প্রয়োজন নেই।
রাজউকের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ২০২৩ সালের মার্চে ‘আরবান রেজিলিয়েন্স’ প্রকল্পের আওতায় যে জরিপ চালানো হয়, সেখানে প্রাথমিকভাবে ২ হাজার ৭০৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ২০৭ হাসপাতাল, ৩৬ থানা এবং ৩০৪ সরকারি ভবন পরীক্ষা করা হয়। এতে ১৮৭ ভবনকে রেট্রোফিটিং এবং ৪২টি ভবন ভেঙে ফেলার সুপারিশ করা হয়। তালিকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি, পিজি হাসপাতালের তিনটি, মাদ্রাসা বোর্ড, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বহু ভবন ছিল।
জরিপে আরও উল্লেখ করা হয়, ঢাকায় মোট ২১ লাখ ৪৫ হাজার ভবন আছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ, অর্থাৎ সাড়ে আট লাখ ভবন ৭ মাত্রার বেশি ভূমিকম্পে ধসে পড়তে পারে। ঢাকার নতুন সরকারি ভবনের ৩৭ শতাংশকেও সেই সময় ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়েছিল। পিজি হাসপাতালের নতুন ১৭ তলা ভবনসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও সেই তালিকায় ছিল।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ভবন-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ কমিটি আনা হলেও তারা রাজউকের প্রতিবেদন চান। রাজউকের কাছে বারবার চিঠি দিয়েও প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। পরে বিশ্ববিদ্যালয় নিজেরাই পরীক্ষা করতে চাইলে বুয়েট জানায়, চারটি পরীক্ষা করতে ৪৫ লাখ টাকা লাগবে। এই অর্থ ইউজিসির কাছে চাওয়া হলেও এখনো অনুমোদন মেলেনি।
রাজউকের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ও ‘আরবান রেজিলিয়েন্স’ প্রকল্প পরিচালক আব্দুল লতিফ হেলালী বলেন, নতুন ভবন নির্মাণে ন্যূনতম মান বজায় রাখা হচ্ছে না, ফলে ঝুঁকি বাড়ছে। ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে দুই লাখের বেশি প্রাণহানি হতে পারে। রেট্রোফিটিং প্রয়োজনীয় ভবনগুলোতে কাজ করতে ৬২ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন।
রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক চারটি ভূমিকম্প বড় বিপদের আগাম সতর্কতা। তাই দোষারোপ না করে সকল সংস্থাকে দ্রুত সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করতে হবে। জরিপে যেসব ভবন ভাঙা বা রেট্রোফিটিংয়ের সুপারিশ ছিল, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি।





