২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তরপত্র মূল্যায়নে গাফিলতির অভিযোগে ৭১ জন প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষককে পাঁচ বছরের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। বুধবার (২০ আগস্ট) বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কালো তালিকাভুক্ত এসব শিক্ষক আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা বোর্ডের আওতায় আয়োজিত কোনো পাবলিক পরীক্ষায় প্রধান পরীক্ষক, পরীক্ষক বা নিরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

বোর্ড জানায়, শিক্ষকদের মূল্যায়নে অবহেলা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা রোধে কঠোর অবস্থানে গেছে বোর্ড। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অবহেলা প্রমাণিত হলে একই ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে।

এছাড়া, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নাম দ্রুত ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) থেকে বাদ দিয়ে বোর্ডকে জানাতে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সর্বাধিক সংখ্যক শিক্ষক ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের উত্তরপত্র মূল্যায়নে অবহেলার কারণে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। এছাড়া বাংলা, গণিত, উচ্চতর গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, ইসলাম শিক্ষা, ব্যবসায় উদ্যোগ, হিসাববিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে এ ধরনের অভিযোগ উঠেছে।

কালো তালিকাভুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক এবং অধ্যক্ষ পর্যায়ের শিক্ষকও। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের মুরাইদ গড়বাজার আইডিয়াল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. ইসহাক আলী, রাজবাড়ীর আরাবাড়িয়া হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল মান্নান, নারায়ণগঞ্জের হাজী পান্ডে আলী হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক শিশির কুমার বালা এবং মানিকগঞ্জ সরকারি হাই স্কুলের শিক্ষক মো. মোস্তাক আহমেদ।

শিক্ষা বোর্ডের এ সিদ্ধান্ত শিক্ষকদের মূল্যায়ন কাজে আরও দায়িত্বশীল হতে উৎসাহ দেবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।