গত দুই বছরে বিভিন্ন দাবিতে ১,১০০ বারেরও বেশি সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। আন্দোলনকারীদের মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থী থেকে রাজনৈতিক দল- সবারই এই পথে অংশগ্রহণ দেখা গেছে। রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় এ সময়ে অন্তত ৩৫০ দিন সড়ক বন্ধ থাকার খবর পাওয়া গেছে।


সর্বশেষ, ১৪ জানুয়ারি ফার্মগেট এলাকায় তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করলে স্থানীয়রা ভোগান্তিতে পড়েন। একই দিনে সাইন্সল্যাব মোড়ে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে যান চলাচল প্রায় ৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকে। এ সময় যাত্রীদেরও সমস্যায় পড়তে হয়।


পত্রপত্রিকার খবর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে রাজধানীজুড়ে বিভিন্ন দাবিতে বারবার রাস্তা অবরোধ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সময় যানজট ও ভোগান্তিতে পড়েছে।


পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ আলম বলেন, “এ ধরনের পরিস্থিতিতে বেশি বলপ্রয়োগের সুযোগ থাকে না। আন্দোলনকারীদের প্রতি জনদুর্ভোগ না করার আহ্বান জানাই।” তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের পর মানুষের মধ্যে একটি অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অনেকে মনে করেন, রাস্তা বন্ধ করলে দাবিদাওয়া আদায় সম্ভব। অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক দলও এতে প্রভাব ফেলে।”


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতার কারণে বিভিন্ন মহল বারবার রাজপথে চাপ সৃষ্টি করতে পারছে। যে বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ হচ্ছে, দ্রুত সমাধান করাই সরকারের জন্য মঙ্গল।”


বিশ্লেষকরা মনে করেন, ব্লকেড নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন যাতে এই ধরনের আন্দোলন বারবার পুনরাবৃত্তি না হয়।