বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। গতকাল বুধবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন এবং প্রেস সচিব সালেহ শিবলী উপস্থিত ছিলেন। এটিই তারেক রহমানের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ।
বৈঠক শেষে মহাসচিব হুমায়ুন কবির জানান, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে চীনের ভূমিকা নিয়ে কথা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং তারেক রহমান কীভাবে দেশ গঠনের রূপরেখা বাস্তবায়ন করতে চান, সে বিষয়েও মতবিনিময় হয়েছে। চীন কীভাবে বাংলাদেশের উন্নয়নে আরও সহযোগিতা করতে পারে, তাও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, চীন বাংলাদেশে একটি নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষায় রয়েছে। তারা তারেক রহমানের ভূমিকা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং ভবিষ্যতে তিনি বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন—এমন প্রত্যাশার কথাও রাষ্ট্রদূত ব্যক্ত করেছেন। এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রদূত ব্যক্তিগতভাবে শোক প্রকাশ করেন এবং শুরুতেই চীনের পক্ষ থেকে শোকবার্তা জানান।
এদিকে দেশে ফেরার পর ঢাকার বাইরে প্রথম সফরে উত্তরাঞ্চলে যাচ্ছেন তারেক রহমান। আগামী ১১ জানুয়ারি তিনি ঢাকা থেকে সফর শুরু করবেন এবং ১৪ জানুয়ারি ঢাকায় ফিরবেন। প্রাথমিকভাবে চারটি জেলার সফরসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে বগুড়ায় গিয়ে এই সফর শেষ হবে।
তবে নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে সফরকালে তিনি কোনো নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেবেন না। সফরের অংশ হিসেবে তিনি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, তাঁর নানি তৈয়বা মজুমদার, আবু সাঈদসহ নিহত জুলাইযোদ্ধা এবং অতীতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহতদের কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন। পাশাপাশি আহত জুলাইযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান জানান, ১১ জানুয়ারি সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে তারেক রহমান ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওনা হবেন। এরপর সিরাজগঞ্জ হয়ে বগুড়া যাবেন এবং সেখানে রাতযাপন করবেন। ১২ জানুয়ারি বগুড়ার কর্মসূচি শেষে তিনি রংপুরের পীরগঞ্জ ও দিনাজপুর সফর করবেন এবং ঠাকুরগাঁওয়ে রাত কাটাবেন। ১৩ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের কর্মসূচি শেষে পঞ্চগড়, নীলফামারী ও লালমনিরহাট ঘুরে আবার রংপুরে ফিরে রাতযাপন করবেন। ১৪ জানুয়ারি বগুড়া (গাবতলী) হয়ে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। তিনি জানান, প্রয়োজনে সফরসূচিতে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।
আতিকুর রহমান আরও বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি যেন কোনোভাবেই লঙ্ঘিত না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট জেলার নেতাকর্মীদের কোনো ধরনের নির্বাচনী ব্যানার বা ফেস্টুন প্রদর্শন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমানের চার দিনের সফরসূচি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে ঢাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এ তথ্য জানানো হয়।





