নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবিতে করা আপিলের রায় আজ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় বিষয়টি রায় ঘোষণার জন্য শীর্ষে রাখা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ রায় দেবেন। গত ১১ নভেম্বর টানা ১০ দিনের শুনানি শেষে রায়ের জন্য ২০ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়। বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা হলেন মো. আশফাকুল ইসলাম, জুবায়ের রহমান চৌধুরী, মো. রেজাউল হক, এস এম ইমদাদুল হক, এ কে এম আসাদুজ্জামান ও ফারাহ মাহবুব।

এ মামলায় রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন ড. শরীফ ভূঁইয়া। বিএনপির পক্ষে জয়নুল আবেদীন ও রুহুল কুদ্দুস কাজল, জামায়াতের পক্ষে অ্যাডভোকেট শিশির মনির এবং ইন্টারভেনর হিসেবে ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিকীসহ আরও কয়েকজন আইনজীবী বক্তব্য দেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে যুক্ত হয় ১৯৯৬ সালে। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে রিট করা হয়। হাইকোর্ট ২০০৪ সালে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বৈধ ঘোষণা করে রিট খারিজ করেন। পরে আপিল বিভাগ ২০১১ সালের ১০ মে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে। এর পর ২০১১ সালের ৩০ জুন পাস হয় পঞ্চদশ সংশোধনী, যার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপ করা হয়।

সরকার পরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন বিশিষ্ট নাগরিক। এরপর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেনও রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন।