ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খানকে ডেনমার্কে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, কোপেনহেগেনে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে তার নাম পাঠানো হয়েছে, এখন শুধু দেশটির আনুষ্ঠানিক সম্মতি বা এগ্রিমঁ পাওয়া বাকি। এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে এক থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে।
২০২৪ সালের আগস্টে ঢাবির ভিসি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ১৫ মাসের মাথায় নতুন এই দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন তিনি।
সরকারি সূত্র বলছে, কেবল তিনিই নন—অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি বিষয়ক দূত লামিয়া মোর্শেদ, আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক বিশেষ দূত লুতফে সিদ্দিকী এবং তার বোন হুসনা সিদ্দিকীকেও রাষ্ট্রদূত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
কোপেনহেগেন ছাড়াও বাংলাদেশের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মিশনে রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনারের পদ শূন্য হতে চলেছে। এর মধ্যে রয়েছে সিঙ্গাপুর, হেগ, থিম্পু, ইয়াঙ্গুন ও তেহরান। আলোচনায় থাকা লুতফে সিদ্দিকীকে সিঙ্গাপুরে এবং হুসনা সিদ্দিকীকে নেদারল্যান্ডসের হেগে পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনায় আছে। অন্যদিকে লামিয়া মোর্শেদ ইউরোপের কোনো দেশে রাষ্ট্রদূত হতে আগ্রহী হলেও বর্তমানে সে অঞ্চলে আর কোনো পদ খালি নেই বলে জানা গেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এসব নিয়োগ নিয়ে আলোচনার পর্ব চলছে, তবে এখনো আনুষ্ঠানিক ফাইলওয়ার্ক শুরু হয়নি।
এদিকে কূটনৈতিক অঙ্গনে এই তালিকা ঘিরে আলোচনা ও সমালোচনা দুই-ই চলছে। অভিযোগ উঠেছে, পেশাদার কূটনীতিকদের উপেক্ষা করে অরাজনৈতিক বা ভিন্ন পেশার ব্যক্তিদের রাষ্ট্রদূত করা হলে ক্যারিয়ার কূটনীতিকদের মনোবলে প্রভাব পড়তে পারে।
উল্লেখ্য, আলোচনায় থাকা লুতফে ও হুসনা সিদ্দিকীর বাবা আবু ইয়াহইয়া বুরহানুল ইসলাম সিদ্দিকী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পুলিশের আইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, রাষ্ট্রদূত নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনা নতুন নয়, তবে অভিজ্ঞ কূটনীতিকদের ওপর দিয়ে অন্য পেশার ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হলে তা নীতি নির্ধারণে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে।





