জয়পুরহাট প্রতিনিধি:  জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় মাত্র পাঁচ বছর বয়সী নাঈম নামের এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গিলাকুড়ী গ্রামে নেমে এসেছে শোক ও ক্ষোভের ছায়া। রহস্যজনক এই মৃত্যু নিয়ে এলাকাজুড়ে চলছে নানা আলোচনা। স্থানীয়দের দাবি—এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং নৃশংস এক হত্যাকাণ্ড।


রবিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঘটে এ মর্মান্তিক ঘটনা। খবর পেয়ে বিকেলে আক্কেলপুর থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে যায়। সন্দেহের ভিত্তিতে শিশুটির সৎ মা জাহানারা বেগম (৩০) কে আটক করেছে পুলিশ।


পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নাঈমের জন্মের এক বছর পরই তার আপন মা মারা যান। পরে শিশুটির বাবা খলিলুর রহমান দ্বিতীয় বিয়ে করেন জাহানারা বেগমকে। পরিবারের অভিযোগ—সকালে খাবার চাইলে জাহানারা ক্ষিপ্ত হয়ে শীল-পাটা দিয়ে নাঈমের মাথায় আঘাত করেন এবং তাকে বাথরুমে ফেলে রেখে দেন। কিছুক্ষণ পর গুরুতর অবস্থায় তাকে নওগাঁ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা জাহানারাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।


আক্কেলপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গণেশ চন্দ্র বলেন,

“শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এটি হত্যা নাকি দুর্ঘটনা—তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

তিনি জানান, সৎ মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে এবং শিশুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে বলেও তিনি জানান।


নিষ্পাপ নাঈমের মৃত্যুতে গ্রামজুড়ে এখন শোকের মাতম। এলাকার মানুষ দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং দোষীর কঠোর শাস্তি দাবি করছেন। পুলিশের তদন্তেই বের হয়ে আসবে এই শিশুমৃত্যুর প্রকৃত সত্য—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।