জয়পুরহাট প্রতিনিধি: জয়পুরহাট-২ (কালাই-ক্ষেতলাল-আক্কেলপুর) আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়নপ্রাপ্ত সাবেক সচিব আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন সাবেক সাংসদ প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফার সমর্থকরা। রোববার বিকেলে জয়পুরহাট–বগুড়া মহাসড়কের কালাই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করা হয়। এতে প্রায় আধাঘণ্টা মহাসড়কের দুই পাশে যানজট তৈরি হয়।


বিক্ষোভে অংশ নেওয়া গোলাম মোস্তফার সমর্থকরা অভিযোগ করেন, “১৭ বছরের ত্যাগী, পরীক্ষিত এবং রাজপথের দায়িত্বশীল নেতাদের মূল্যায়ন না করে অতিথি পাখি ও অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে প্রার্থী করা হয়েছে।” তাদের দাবি, ঘোষিত প্রার্থী সাবেক ডিসি আব্দুল বারীকে তারা “মানবেন না, মানা যাবে না।” তারা বলেন, আব্দুল বারী স্থানীয়ভাবে পরিচিত নন এবং মাঠের রাজনীতির সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাই তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে এই মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তারা।


এক ভোটার মজিবর রহমান বলেন, “আমি কোনো পদে নেই, তবু জেলে গেছি, বাড়িছাড়া হয়েছি, খেয়ে না খেয়ে সময় কাটিয়েছি। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা আমাদের খবর নিয়েছেন। মাঠের রাজনীতি না জানা একজন আমলাকে কেন মনোনয়ন দেওয়া হলো—এটি বুঝতে পারছি না।”


অন্যদিকে মনোনয়নপ্রাপ্ত আব্দুল বারী বলছেন, “মনোনয়ন না পাওয়ায় প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা ভাড়াটিয়া লোকজন এনে মহাসড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন। এসব লোকজন বিএনপির কেউ নন। হাইকমান্ড অবশ্যই বিষয়টির ব্যবস্থা নেবে।”


উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন ফকির বলেন, “বিএনপি একটি বড় দল। হাইকমান্ড যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন, তিনিই আমাদের প্রার্থী। আজকের বিক্ষোভের সঙ্গে উপজেলা বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা ভাড়াটে লোকজন পাঠিয়ে বিক্ষোভ করিয়েছেন। এর দায় তাঁরই।”


এফতাদুল হক, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বলেন, “প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা দীর্ঘদিন মাঠে ছিলেন এবং বহু নির্যাতন সহ্য করেছেন। অথচ গত ১৫ বছরে মাঠে দেখা যায়নি এমন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আমরা মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে বিক্ষোভ করছি। আশা করি দল আমাদের দাবি বিবেচনা করবে।”


মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই আব্দুল বারী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। রোববার তিনি কালাই ডিগ্রি কলেজ মাঠে গাক চক্ষু হাসপাতালের ফ্রি চক্ষু শিবির উদ্বোধন করেন এবং বিএনপির ৩১ দফা বাস্তবায়নে লিফলেট বিতরণ করেন।