ঐতিহাসিক জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা অংশ নিলেও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও চার বাম ধারার দল অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।

চার বাম দল হলো: বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাসদ (মার্ক্সবাদী) এবং বাংলাদেশ জাসদ।

শুক্রবার বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস অনুষ্ঠানের আগে সেখানে পৌঁছান।

অনুষ্ঠানস্থলে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও অতিথিরা, কিন্তু এনসিপি ও চার বাম দলকে দেখা যায়নি। এনসিপির মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন জানান, দলের কেউ অনুষ্ঠানে যাননি এবং আগেই তাদের সিদ্ধান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

এনসিপি বৃহস্পতিবার রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, আইনি ভিত্তি ছাড়া তারা এখন জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে না। এছাড়া দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, কিছু রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় ঐকমত্যের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে একটি কাগজে সই করছে’।

চার বাম দলও জানিয়েছে, সংশোধিত খসড়া না পেলে তারা সনদে স্বাক্ষর করবে না। সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির বলেন, “আমরা আগেই আমাদের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছি। চার বাম দলের নেতারা অনুষ্ঠানস্থলে অংশ নেননি।”

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করে। প্রথম ধাপে গঠন করা ছয়টি সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব নিয়ে দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। দুই পর্বের আলোচনায় ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়, যা ভিত্তি হয়ে তৈরি হচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, কোনো দল চাইলে পরেও সনদে স্বাক্ষর করতে পারবে।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দিয়ে একদল লোক অনুষ্ঠানস্থলে অবস্থান নেন। পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে লাঠিচার্জ করলে সংঘর্ষ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।