সংবিধান সংস্কার বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী অনুষ্ঠিত গণভোটে ৬৮ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ দিয়েছেন। এ ভিত্তিতে জাতীয় সংসদে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠনসহ সনদ বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। তবে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন সংসদে শপথগ্রহণের সময় সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দুইটি শপথ হওয়ার কথা থাকলেও তা পূর্ণ হয়নি।

বিএনপি জোট ও স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত সদস্যরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াত ও তাদের মিত্র এনসিপি থেকে নির্বাচিতরা সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য উভয় শপথই নিয়েছেন।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “বিএনপির নির্বাচিতরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি। এতে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের আশা, সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে সংবিধান অনুযায়ী এগোতে হবে।”

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ সংবিধানসম্মত হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, “রাষ্ট্রপতির কোনো ক্ষমতা নেই এই আদেশ জারি করার। সংবিধানকে সংবিধানসম্মতভাবে চলতে দিতে হবে।” ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, “দ্বিতীয় শপথ যুক্ত করা হয়েছে যা অবৈধ। সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন ছাড়া এটি করা সম্ভব নয়।”

২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জুলাই জাতীয় সনদে ৪৮টি প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত ছিল। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের সময় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথের পাশাপাশি পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা ছিল। তবে বিএনপি সদস্যরা শুধুমাত্র সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

অন্যদিকে, গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ তৌহিদ রিটে উল্লেখ করেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোট এবং ১৩ ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত গেজেট (ফলাফলের ঘোষণা) সংবিধান ও আইনবিরুদ্ধ। রিটে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গণভোটের ফল বাস্তবায়ন থেকে বিরত রাখার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, আইন সচিব ও নির্বাচন কমিশন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের শুরুতেই এই আইনি জটিলতা সংবিধান সংস্কারের পুরো প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।