জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ একতরফা ও জাতির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন অযৌক্তিক ও অবিবেচনাপ্রসূত। তিনি জানান, জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাবিত সুপারিশ নিয়ে প্রয়োজনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপি আলোচনা করবে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা আশা করি, ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় জাতি ঐক্যবদ্ধ হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান দায়িত্ব হবে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা। জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে আমরা এমন এক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে থাকবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার।”
বিএনপি মহাসচিবের দাবি, জাতিকে বিভক্ত করার যে কোনো উদ্যোগ অনৈক্য সৃষ্টি করবে এবং জাতীয় জীবনে অস্থিতিশীলতা ডেকে আনবে। “আমরা চাই ঐক্য, প্রতারণা নয়,”—বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল উল্লেখ করেন, প্রস্তাবে বলা হয়েছে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একই সঙ্গে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ হিসেবে কাজ করবেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক এখতিয়ার কেবল জাতীয় সংসদ ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের ক্ষমতা তাদের নেই।
তিনি আরও বলেন, “পরিষদ যদি ২৭০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারে, তাহলে সংস্কার বিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে যুক্ত হবে—এমন প্রস্তাব সম্পূর্ণ হাস্যকর ও গণতান্ত্রিক রীতির পরিপন্থী।”
আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের প্রেক্ষাপটে বিএনপি প্রস্তাব করেছে—নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজন করা হোক। মির্জা ফখরুলের ভাষায়, “আগে গণভোট নেওয়া অপ্রয়োজনীয় ও অবিবেচনাপ্রসূত। নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হলে সময়, ব্যয় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দিক থেকে তা অনেক বেশি যৌক্তিক।”
তিনি বলেন, বিএনপি সংস্কার কমিশন ও ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে। “আমরা সবসময়ই সংস্কারের পক্ষে। শহীদ জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন–২০৩০ এবং তারেক রহমানের ২৭ দফা প্রমাণ করে বিএনপি গণতান্ত্রিক সংস্কারে আন্তরিক,”—যোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, সালাহউদ্দিন আহমদ ও নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।





