আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতনসহ সব মানবতাবিরোধী অপরাধের মূল পরিকল্পনাকারী ও কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী এবং ভারতে পলাতক আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার (৩ আগস্ট) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলাটির সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন তিনি। আদালতের তিন সদস্যের বেঞ্চে আরও ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহাম্মদ মোহিতুল হক।

প্রথমে মামলার সংক্ষিপ্ত প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। এরপর বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রধান প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন,“জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধগুলোর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল শেখ হাসিনার ক্ষমতা ধরে রাখা। তিনিই ছিলেন এই অপরাধগুলোর নিউক্লিয়াস। তাঁর নির্দেশনাতেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় কর্মীরা একের পর এক নিষ্ঠুরতা চালায়।”

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে থাকা ব্যক্তিরা জানতেন— তাঁর ক্ষমতায় থাকা মানে তাঁদের নিরাপত্তা ও পুরস্কার নিশ্চিত। এভাবেই অপরাধ সংগঠিত হয়েছে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত একটি কাঠামোর মাধ্যমে।

প্রসিকিউটর জানান, মামলাটির তদন্ত শুরু হয় গত বছরের ১৬ আগস্ট। এরপর ১২ মে তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়। ১ জুন আদালত অভিযোগ আমলে নেয় এবং ১০ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়।

রোববার ছিল মামলাটির সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য নির্ধারিত দিন। শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের আইন কর্মকর্তারা, তদন্ত কর্মকর্তারা এবং ট্রাইব্যুনালের মনোনীত পর্যবেক্ষক দল।

প্রসঙ্গত, এই মামলায় প্রধান আসামি শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই বিচার চলবে। এছাড়া সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এই মামলার অপর দুই আসামি।