মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরা শহরের ব্যস্ত সড়কের পাশে একটি ছোট কাঠের টুল ও পুরোনো পালিশের বাক্স নিয়ে বসে থাকেন দুলাল চন্দ্র দাস। জুতা পালিশ করাই তার পেশা। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রাহকের অপেক্ষায় থাকেন তিনি। তবে দিনের শেষে যা আয় হয়, তা দিয়ে চার সন্তানের পড়াশোনা ও সংসারের ব্যয় মেটানো তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।


দুলাল চন্দ্র দাসের তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সন্তানদের পড়াশোনা করিয়ে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু সীমিত আয়ের কারণে সেই স্বপ্ন অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কোনো দিন আয় হয় ৩০০ টাকা, কোনো দিন ২০০ টাকা, আবার কোনো দিন আয়ই হয় না। বৃষ্টি বা রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় কাজ বন্ধ থাকলে তার আয় শূন্যে নেমে আসে।


সংসারের ভাড়া, খাবার, ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে তাকে হিমশিম খেতে হয়। ফলে সন্তানদের নিয়মিত স্কুলে পাঠানো সম্ভব হয়নি। বড় ছেলে অল্প বয়সেই বাবাকে সহায়তা করতে কাজ শুরু করেছে এবং মেয়ের পড়াশোনাও মাঝপথে বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।


দুলাল চন্দ্র দাস বলেন, সন্তানদের লেখাপড়া শিখিয়ে ভালো চাকরিতে দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সংসারের চাপে তাদেরও কাজে যুক্ত হতে হয়েছে। তিনি জানান, দৈনিক আয় দিয়ে সংসার চালানোই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।


স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই পেশায় থাকা দুলাল চন্দ্র দাসের সৎ ও পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে এলাকায় সুনাম রয়েছে। তবে আর্থিক সংকট তাকে সবসময় চাপের মধ্যে রাখে।


সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের সহায়তা পেলে তার সন্তানদের পড়াশোনা আবারও শুরু হতে পারে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী। মানবিক ও সরকারি সহায়তা পেলে একটি পরিবারের জীবনমান বদলে যেতে পারে বলেও মনে করেন তার