গুম করে শতাধিক মানুষ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ১৪ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (দুপুরে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এদিন আসামিপক্ষের আইনজীবী মনসুরুল হক ও নাজনিন নাহার অভিযোগ থেকে জিয়াউল আহসানকে অব্যাহতির আবেদন জানিয়ে বলেন, প্রসিকিউশন তার সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।
এর বিপরীতে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, আসামির বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে (প্রাইমা ফেসি) অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তিনি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন জানান। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আদেশের জন্য ১৪ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করেন।
এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ উপস্থাপন করেন।
প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে র্যাব সদর দপ্তর থেকে অবৈধভাবে আটক সজলসহ তিনজনকে নিয়ে জিয়াউল আহসান ও তার দল গাজীপুরের দিকে রওনা হন। ঢাকা বাইপাস সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাড়ি থামিয়ে বন্দীদের চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, বরগুনার পাথরঘাটার চরদুয়ানী এলাকা ও বলেশ্বর নদীর মোহনা ছিল জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে পরিচালিত হত্যাকাণ্ডের অন্যতম ‘হটস্পট’। গভীর রাতে বন্দীদের নৌকা বা ট্রলারে নদীর মাঝখানে নিয়ে গিয়ে মাথা বা বুকে বালিশ চেপে গুলি করা হতো। পরে পেটে সিমেন্টের ব্লক বেঁধে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। এই পদ্ধতিকে ‘গেস্টাপো’ বা ‘গলফ’ কোডনামে পরিচালনা করা হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এভাবে সাবেক বিডিআর সদস্য নজরুল ইসলাম মল্লিক ও আলকাছ মল্লিকসহ অন্তত ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, তথাকথিত বনদস্যু দমনের নামে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় হত্যা অভিযান পরিচালনা করা হতো। পূর্বে আটক ও গুম হওয়া ব্যক্তিদের বনদস্যু হিসেবে সাজিয়ে গভীর রাতে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ দেখানো হতো। এসব অভিযানে র্যাবের বাছাই করা সদস্যরা অংশ নিতেন এবং অনেক ক্ষেত্রে জিয়াউল আহসান নিজে উপস্থিত থাকতেন। ‘অপারেশন নিশানখালী’, ‘অপারেশন মরা ভোলা’ ও ‘অপারেশন কটকা’ নামে পরিচালিত এসব অভিযানে অন্তত ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।





