আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সরকার গঠন তো দূরের কথা, দলটি ১০টি আসনও পাবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সাবেক সচিব ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবু আলম শহীদ খান। সম্প্রতি একটি টক শোতে অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

শহীদ খান বলেন, \"জামায়াতের সংগঠন শক্তিশালী হলেও, জনগণের কাছে তারা সেভাবে যেতে না পারলে ডাবল ডিজিটেও পৌঁছাতে পারবে না। বিরোধী দলের জায়গা নিতে হলে ৫০-৮০ সিট লাগে। ১০টি আসন পেয়ে বড় কোনো বিরোধী শক্তি হওয়া সম্ভব নয়।\"

জাতীয় পার্টির বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “জাতীয় পার্টির একটা ভালো মার্কা আছে, সেটা লাঙল। তারা একসময় স্বৈরাচার হিসেবে পরিচিত থাকলেও ’৯১-এর নির্বাচনে কারাগারে থাকা অবস্থায় এরশাদের দল ৩৯টি আসন পেয়েছিল। ফলে এখনো তাদের একটি সম্ভাবনা রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে আওয়ামী লীগের অনেক বিদ্রোহী বা ক্ষুব্ধ নেতা রয়েছেন, যারা বিগত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়েও ভালো করেছেন। এসব নেতা এনসপি, এবি পার্টি বা মাহমুদুর রহমানের মতো নতুন রাজনৈতিক শক্তির দিকে ঝুঁকতে পারেন। কারণ নতুন দলগুলোকে ৩০০ আসনে প্রার্থী দাঁড় করাতে হলে বাইরে থেকে লোক আনতেই হবে।”

নির্বাচন প্রসঙ্গে শহীদ খান বলেন, “নির্বাচন অনিবার্য। সেটা ডিসেম্বরে হোক, ফেব্রুয়ারিতে হোক— যত দ্রুত সম্ভব হওয়া দরকার। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি—আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য, বেকারত্ব—সবকিছুই সংকটময়। স্ট্যাটিস্টিকস বলছে, প্রায় ২৮ লাখ মানুষ বেকার হয়ে গেছে এবং ২৮ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। তাই এই মুহূর্তে সুষ্ঠু নির্বাচন দেশের জন্য সবচেয়ে জরুরি।”

তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে যেকোনো সরকারকে জবাবদিহিমূলক হতে হবে, আর সেটা সম্ভব একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমেই।