জাবি প্রতিনিধি :কর্মজীবী নারীদের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া মন্তব্যের প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ঝাড়ু ও মশাল মিছিলসহ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
রোববার সন্ধ্যা সাতটার দিকে কয়েক শ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার এলাকা থেকে মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বটতলা এলাকায় গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দিতে দেখা যায়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, কর্মজীবী নারীদের নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য সমাজে নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তারা অভিযোগ করেন, বিতর্কিত মন্তব্যের পর এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার দাবি তুলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী লামিশা জামান বলেন, ইসলামী ইতিহাসে কর্মজীবী ও নেতৃত্বদানকারী নারীদের অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, হজরত খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী, হজরত আয়েশা (রা.) ছিলেন প্রখ্যাত শিক্ষিকা এবং হজরত ওমর (রা.)–এর শাসনামলে শিফা বিনতে আবদুল্লাহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব ঐতিহাসিক বাস্তবতার সঙ্গে সাম্প্রতিক ব্যাখ্যার কোনো সামঞ্জস্য নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নীতিমালা অনুযায়ী অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও প্রমাণ প্রয়োজন, যা এখনো জনসমক্ষে আসেনি। তার মতে, বিতর্ক এড়াতেই এ ধরনের দাবি তোলা হয়েছে।
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া বলেন, দেশের লাখো নারী পরিবার ও সমাজের জন্য প্রতিদিন শ্রম দিচ্ছেন। নারীদের নিয়ন্ত্রণ বা হেয় করার যেকোনো প্রচেষ্টা অগ্রহণযোগ্য। তিনি দ্রুত মন্তব্য প্রত্যাহার ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিদের নীরবতা হতাশাজনক। একই সঙ্গে জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মজহারুল ইসলামের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের সমালোচনা করে বলেন, প্রতিবাদকারীদের ‘মিথ্যাবাদী’ বলার মতো বক্তব্য নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার জন্য হুমকিস্বরূপ।
সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা জানান, নারীদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার বা অবমাননার চেষ্টা করা হলে তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তারা বলেন, নারী ও পুরুষ একসঙ্গে সমানভাবে অংশ নিয়েই দেশ গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।





