বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ব্যবহৃত ডিভাইস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে একাধিকবার হ্যাকিংয়ের চেষ্টার প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে অনুসন্ধানী প্ল্যাটফর্ম দ্য ডিসেন্ট। তবে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের বিতর্কিত এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টটি সরাসরি হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে তারা।


দ্য ডিসেন্টের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বঙ্গভবনের একজন সহকারী প্রোগ্রামারের অফিসিয়াল ইমেইল ঠিকানা থেকে ৫ ও ১০ জানুয়ারি জামায়াতের বিভিন্ন শাখার অফিসিয়াল ইমেইলে পাঠানো দুটি মেইলের এটাচমেন্টে ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার ছিল। ফরেনসিক বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ওই ফাইলটি একটি ট্রোজান ব্যাকডোর ম্যালওয়্যার, যা ডিভাইস দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সক্ষমতা রাখে।


দ্য ডিসেন্ট জানায়, ইমেইলের এটাচমেন্ট ফাইলটি খোলার পর জামায়াতের অন্তত একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট পরিচালনাকারী ডিভাইসে সন্দেহজনক লগইন, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন এবং অ্যাডমিন তালিকায় অজ্ঞাত আইডি যুক্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার লগ, স্ক্রিনশট ও ইমেইল নোটিফিকেশন যাচাই করেছে দ্য ডিসেন্ট।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যালওয়্যারটি এমনভাবে তৈরি যে এটি ব্যবহার করে কোনো ডিভাইস থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট, স্ক্রিনশট শেয়ার বা অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব, অথচ মূল ব্যবহারকারীর কাছে কোনো ওটিপি বা নোটিফিকেশন নাও আসতে পারে।


দেশি ও বিদেশি অন্তত পাঁচজন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ফাইলটি পরীক্ষা করে এটিকে টার্গেটেড সাইবার আক্রমণ বা ‘স্পিয়ার ফিশিং’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাদের মতে, এটি একটি উচ্চমাত্রার প্রযুক্তিগত সক্ষমতাসম্পন্ন আক্রমণ, যা সাধারণ সাইবার অপরাধীদের কাজ নয়।


দ্য ডিসেন্ট বলছে, এসব তথ্য থেকে স্পষ্ট হয় যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় অফিস ও সংশ্লিষ্ট ডিভাইসগুলোতে পরিকল্পিত হ্যাকিংয়ের চেষ্টা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক পোস্ট সরাসরি এই হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।


সুত্র : দ্য ডিসেন্ট