জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) আবাসিক হলে সিট দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল শাখার দুই নেতার মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় এক নেতার বিরুদ্ধে ছুরিকাঘাতের মাধ্যমে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করছে।

লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, ১৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এ কে এম আবদুল্লাহ আল মাসুদ ও তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী ও যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়সাল আহমেদ মিলে সমাজকর্ম বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইকরাম হোসেনের রুমে (হল-২০৩) প্রবেশ করেন। সেখানে একটি সিট দখল নিয়ে তাদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়।

ইকরাম হোসেন অভিযোগে উল্লেখ করেন, ওই সিটে পূর্বে সমাজকর্ম বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী সোহান ও রাশেদ অবস্থান করতেন। বর্তমানে নতুন সিট বরাদ্দে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তিনি কাউকে উঠতে দিতে রাজি ছিলেন না। তবে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক সিএসই বিভাগের চতুর্থ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল সদস্য মো. জোবাইদ হোসাইনকে সেখানে উঠানোর চেষ্টা করেন।

এ সময় উত্তেজনা চূড়ায় পৌঁছালে জোবাইদ হোসাইন রুমে রাখা একটি ছুরি তুলে ইকরামের ওপর আক্রমণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে বলা হয়। তবে উপস্থিত অন্যরা তাকে আটকে দিলে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।

পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর ইকরাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে জোবাইদ হোসাইন অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, “এসব কিছুই সত্য নয়। আমি শুধু মাসুদ ভাইয়ের ডাকে গিয়েছিলাম। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।”

অন্যদিকে, অভিযুক্ত যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়সাল আহমেদ অভিযোগের আংশিক সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “ঘটনাটি অতিরঞ্জিত করা হয়েছে। ইকরাম ভাই গালাগালি করলে জোবাইদ উত্তেজিত হয়ে ছুটে গিয়েছিল, তবে আমরা সঙ্গে সঙ্গে তাকে শান্ত করি।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী হলে সিট না পেয়ে কষ্ট করছে। অথচ ইকরাম ভাই নিজের জিনিস রেখে অন্য কাউকে উঠতে দিচ্ছেন না, এটা তো সিট দখলের শামিল।”

অভিযোগ সম্পর্কে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে প্রথমে তিনি ফোন কেটে দেন এবং পরে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহকারী অধ্যাপক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, “আমরা উভয় পক্ষের অভিযোগ পেয়েছি এবং তাদের ডেকে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করব। আলোচনায় সমাধান না হলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রয়োজনে এই প্রতিবেদনটি আরও সংক্ষিপ্ত, সাংবাদিক স্টাইল অথবা অনুসন্ধানী আঙ্গিকে সাজিয়েও দিতে পারি। বলুন, কীভাবে সাহায্য করতে পারি?