জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খানের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগে মামলা করেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও সিরাজগঞ্জ–২ (সদর–কামারখন্দ) আসনের প্রার্থী অধ্যাপক মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সিরাজগঞ্জ সদর থানা আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন তিনি।
বাদী পক্ষের আইনজীবী আবু তালেব আকন্দ জানান, আদালত অভিযোগটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৫ অক্টোবর একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে ড. নাহরিন ইসলাম বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত অধ্যাপক জাহিদুল ইসলামের সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ টেনে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও কুরুচিপূর্ণ’ বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বিবিসির সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আওয়ামী লীগ নেতারা পালিয়ে গেলে তাদের স্ত্রীদের প্রতি জামায়াতের হক রয়েছে।”
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ড. নাহরিনের এ বক্তব্য অধ্যাপক জাহিদুল ইসলামের সামাজিক মর্যাদা ও সম্মান ক্ষুণ্ণ করেছে। পরে টকশোটির ওই অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “১১ অক্টোবর বিবিসি বাংলার সাক্ষাৎকারে আমি শুধু বলেছিলাম— আওয়ামী লীগের কিছু ভোটার ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন, তবে অধিকাংশ মানুষ নিরাপত্তার জন্য জামায়াতকে ভোট দেবেন। নারী বা স্ত্রীদের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করিনি।”
তিনি আরও বলেন, “ড. নাহরিনের বক্তব্য আমার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। তাই বাধ্য হয়েই আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি।”
অন্যদিকে, ড. নাহরিন ইসলাম খান অভিযোগটি ‘পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যমূলক’ বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “সিরাজগঞ্জের কোনো জামায়াত নেতাকে লক্ষ্য করে আমি নিজে কিছু বলিনি। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত একটি বক্তব্যের রেফারেন্স দিয়েছিলাম মাত্র। টকশোতে উপস্থিত অন্য অতিথিরাও তখন কোনো আপত্তি করেননি। অথচ এখন মামলা করা হয়েছে কর্মজীবী নারীদের কণ্ঠরোধের উদ্দেশ্যে।”





