জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের নির্জন ও কম জনবসতিপূর্ণ টোকারা দ্বীপপুঞ্জে টানা দুই সপ্তাহে ৯০০টিরও বেশি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এ ঘটনায় দ্বীপের সাতটি বসবাসযোগ্য এলাকার প্রায় ৭০০ বাসিন্দার মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই জানিয়েছেন, আতঙ্কের কারণে রাতে ঘুমাতেও পারছেন না।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
জাপানের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, গত ২১ জুন থেকে দ্বীপপুঞ্জ ঘিরে সমুদ্র এলাকায় ভূকম্পনজনিত তৎপরতা বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ বুধবার রিখটার স্কেলে ৫.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে।
তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি এবং সুনামির আশঙ্কাও নেই বলে জানানো হয়েছে। তারপরও স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলেছে এবং প্রয়োজনে দ্রুত আশ্রয় নিতে প্রস্তুত থাকতে অনুরোধ করেছে।
দ্বীপপুঞ্জের আকুসেকিজিমা দ্বীপের বাসিন্দা চিজুকো আরিকাওয়া স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল এমবিসিকে জানান, “ভূমিকম্প শুরুর আগে সমুদ্র থেকে এক অদ্ভুত গর্জনের শব্দ শোনা যায়, বিশেষ করে রাতে। পুরোটা যেন ভৌতিক মনে হয়।”
স্থানীয় প্রতিনিধি ইসামু সাকামোতো বলেন, “নিচ থেকে হঠাৎ একটা ধাক্কা লাগে, তারপর পুরো ঘর কেঁপে ওঠে। এতে শরীরে অস্বস্তি লাগে।”
ভূমিকম্পের এই ধারাবাহিকতার মধ্যেই দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এক ভয়াবহ গুজব—আগামী ৫ জুলাই ‘শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প’ হতে পারে। গুজবটির উৎস একটি জাপানি কমিক বই, যেখানে ১৯৯৯ সালে লেখক রিও তাতসুকি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, ২০২৫ সালের ৫ জুলাই ভয়াবহ ভূমিকম্প আসবে।
এই গুজবকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। অনেক পর্যটক তাদের ভ্রমণ বাতিল করছেন বলেও জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।
২০১১ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামিতে জাপানে ১৮ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানির পর থেকেই “দ্য বিগ ওয়ান” নামে সম্ভাব্য একটি বড় ভূমিকম্প নিয়ে জাতিগতভাবে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
সরকার আশঙ্কা করছে, এমন একটি ভূমিকম্পে ৩ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে চলতি সপ্তাহেই জাপান সরকার নতুন বাধ নির্মাণ, জরুরি আশ্রয় কেন্দ্র গঠন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাড়তি প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়েছে।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি, তবে এখনও অনেক কিছু করার বাকি।”





