জাতীয় পার্টিকে রক্ষা করা এখন বিএনপির দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। সম্প্রতি এক টক শোতে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। তার মতে, গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে বিএনপিকেই এ দায়িত্ব নিতে হবে।
শামীম পাটোয়ারী বলেন, “অনেকে জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার কথা বললেও তা এখন স্তিমিত হয়ে এসেছে। আমরা বিএনপিকে ধন্যবাদ জানাই—তারা এখন পর্যন্ত সেই ফাঁদে পা দেয়নি। জাতীয় পার্টি যদি নিষিদ্ধ হয়, তাহলে ভোটের রাজনীতিতে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপির সামনে নতুন চাপ তৈরি হবে। ছোট দলগুলো তখন আরও আসন দাবি করবে, আর বিএনপি রাজনৈতিকভাবে পাপেটে পরিণত হবে। সেজন্যই জাতীয় পার্টিকে রক্ষা করা বিএনপির গণতান্ত্রিক দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “রাজনীতিতে একটি 'কুলিং পিরিয়ড' দরকার, যা অতীতে বিএনপিও ব্যবহার করেছে। ২০০৬ সালের পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেও শুরুতেই বিএনপির ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়নি। কিছুটা সময় নিয়েই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হয়েছে। এখন সেই ধৈর্য্য ও কৌশল আবারও প্রয়োজন।”
সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনার প্রশ্নে শামীম পাটোয়ারী বলেন, “বর্তমান সেনাপ্রধান ক্ষমতা নেওয়ার কোনো আগ্রহ দেখাননি। ৫ তারিখেই সুযোগ থাকলেও তিনি সেটা করেননি, যা প্রশংসার দাবি রাখে। তবে এখন দেশে বাস্তবিকই এক ধরনের সাংবিধানিক সংকট চলছে। সরকার নিজেই যেন দায়িত্বহীন এবং অস্থির এক অবস্থায় আছে। অনেক উপদেষ্টা বিদেশ থেকে এসেছেন, যাদের অনেকের নাগরিকত্ব নিয়েও প্রশ্ন আছে।”
সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার মন্তব্য নিয়েও সমালোচনা করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব। তিনি বলেন, “তিনি একজন উপদেষ্টা এবং কেবিনেটের সদস্য। সেই হিসেবে সরকারের সমালোচনা করে তিনি সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। সংবিধানের ৫৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কেবিনেটের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে সংসদের কাছে দায়বদ্ধ এবং কেউ ব্যক্তিগতভাবে সরকারের সমালোচনা করতে পারেন না।”
শামীম পাটোয়ারীর মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা, দায়িত্বশীল আচরণ ও সংবিধান মেনে চলা সকল রাজনৈতিক শক্তির জন্য অত্যন্ত জরুরি।





