বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, \"জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত আইন যেন কোনোভাবেই রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে উঠেছে।\"
সোমবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনাসভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “জরুরি আইন সংশোধন ও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার বিষয়ে আমরা সবাই একমত হয়েছি। আলোচনা হয়েছে বিকেন্দ্রীকরণমূলক বিচারব্যবস্থা নিয়েও।”
তিনি জানান, জেলা আদালত বিকেন্দ্রীকরণ বিষয়ে বৈঠকে নীতিগতভাবে একমত হলেও কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “জেলা সদরের মধ্যে যদি নিকটবর্তী উপজেলাগুলো থাকে (১৫-২০ কিলোমিটারের মধ্যে), সেখানে আলাদা উপজেলা আদালতের প্রয়োজন নেই। তবে সদর থেকে দূরে, জনবহুল উপজেলা হলে সেখানে আদালত স্থাপন করা যেতে পারে।”
তিনি আরও জানান, “ব্রিটিশ আমল থেকে কিছু দ্বীপ অঞ্চল এবং দুর্গম উপজেলায় আদালত স্থাপিত ছিল, যার সংখ্যা বর্তমানে ৬৭টি। সেগুলো বহাল থাকবে।”
একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, “১৯৯১ সালে তো বিএনপি উপজেলা আদালত বাতিল করেছিল, এখন আবার পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথা বলছেন কেন?”
জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “১৯৯১ সালে বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে, তখন জাতীয়ভাবে উপজেলা আদালত বাতিলের ব্যাপারে কোনো বিরোধিতা ছিল না। তবে সময়ের প্রেক্ষাপট, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি বিবেচনায় নতুন বাস্তবতায় কিছু পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সেই বিবর্তনের ধারাবাহিকতায় নতুন করে চিন্তা করা হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “বর্তমান প্রজন্মের প্রয়োজন এবং জনগণের স্বার্থেই বিচারিক কাঠামোয় পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক।”
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে এই আলোচনাকে বিএনপি ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ হিসেবে দেখছে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।





