রাজধানীর ওয়ারীতে গত বছর আগস্টে জমিসংক্রান্ত বিরোধের কারণে হত্যাকাণ্ডে নিহত বিএনপি নেতা মো. আল-আমিন ভূঁইয়া ও তার ছোট ভাই নুরুল আমিনের মৃত্যু জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। তবু আল-আমিনকে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শহীদ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

 সরকারি তালিকায় থাকা ৮৩৪ জনের মধ্যে অন্তত ৫২ জনের মৃত্যু জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। অনেক পরিবার স্বীকার করেছেন, তাদের স্বজন আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেননি। কেউ কেউ সরকারি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় নাম তালিকায় যুক্ত করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তালিকাটি পুনঃযাচাই করা হচ্ছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শাখার যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেছেন, জেলা থেকে তথ্য পাওয়ার পর যারা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেননি, তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। আন্দোলনের চাপের ফলে সরকারের পরিবর্তন হয় এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এরপর শহীদদের তালিকা প্রস্তুত ও প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যেক শহীদ পরিবার এককালীন অর্থ সহায়তা, মাসিক ভাতা এবং ঢাকায় ফ্ল্যাটসহ বিভিন্ন সুবিধা পাচ্ছে। তবে তালিকাভুক্তির বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নয় এবং পুনঃনিরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে।

আটোরিকশাচালক জামাল উদ্দিনের মতো কিছু ব্যক্তির মৃত্যু আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, তবু তালিকায় নাম যুক্ত হয়েছে। স্বজনরা বলেছেন, তারা সরকারি সহায়তা পেয়েছেন কিন্তু আন্দোলনে তাদের সম্পৃক্ততা ছিল না।

এই বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে এবং তালিকা পুনরায় যাচাই করার উদ্যোগ চলছে।