জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চলমান আন্দোলনে তাদের তিন দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বেশ কয়েকদিন ধরে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের দাবি না মেনে নেওয়ার কারণে, গত কয়েকদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম আনঅফিসিয়ালি ‘শাটডাউন’ ঘোষণা করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম তাদের দাবিকে যৌক্তিক আখ্যা দিয়ে ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে একাধিক প্রশ্ন রেখেছেন।

\r\n

বৃহস্পতিবার (১৫ মে) সারজিস আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বলেন, \"জবি শিক্ষার্থীদের আবার রাস্তায় নামতে হলো কেন? বছরের পর বছর ধরে পুরো দেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অথচ ঢাকার বুকে দেশের প্রথম সারির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো আবাসিক হল নেই। মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য আছে মাত্র একটি আবাসিক হল, আর একাডেমিক স্পেসও চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম।\"

\r\n

তিনি আরও বলেন, \"এমনকি, যেখানে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি অবস্থিত—সদরঘাট এলাকায়—এটি ঢাকার সবচেয়ে অযোগ্য একটি জায়গা। সেখানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী কীভাবে থাকবে? এ নিয়ে কি কারও কোনো মাথাব্যথা আছে?\"

\r\n

এছাড়া, আওয়ামী লীগ কর্তৃক বিভিন্ন স্থানে দখল করা জায়গা ও ভবন নিয়ে প্রশ্ন তুলে সারজিস বলেন, \"এখনো কেন তারা এসব জায়গা বা ভবন ফিরে পাচ্ছে না? কেন তাদের স্থায়ী ক্যাম্পাসের কাজ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না?\"

\r\n

তিনি আরও বলেন, \"জবি শিক্ষার্থীরা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে। তাদের জন্য কি কোনো সংস্কার হয়েছে? শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে কি? বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক। সেটি যেন নামকাওয়াস্তে না হয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতীয়মান হোক।\"

\r\n

এদিন, ১৪ মে সকালে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের চার দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন 'যমুনা' অভিমুখে একটি লংমার্চ শুরু করেন। লংমার্চটি গুলিস্তান হয়ে মৎস্য ভবন পার করে কাকরাইল মসজিদ পর্যন্ত পৌঁছালে, পুলিশ তাদের ওপর টিয়ারগ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে গরম পানি ও লাঠিচার্জ ব্যবহার করে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

\r\n

এ ঘটনার মধ্য দিয়ে, জবির শিক্ষার্থীরা তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধান চেয়ে আরও একবার দাবি জানিয়েছেন