জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জোবায়েদ হোসাইনের হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে কিছু গণমাধ্যম—এমন অভিযোগ তুলেছে পুলিশ প্রশাসন। লালবাগ জোনের ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামি জানিয়েছেন, “গণমাধ্যমের সব তথ্য বিশ্বাস না করার” অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে কিছু তথ্য আপাতত প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
সোমবার (২০ অক্টোবর) জানাজা শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “সঠিক তথ্য আমাদের হাতে আছে। ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। আশা করছি মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টার মধ্যে সুসংবাদ দিতে পারব। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সময় লাগলেও প্রকৃত ঘাতকদের গ্রেপ্তার করা হবে। তাদের গ্রেপ্তার হলেই জানা যাবে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না।”
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “জোবায়েদের বড় ভাই সৈকত ৪৯তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েছেন। কিন্তু জোবায়েদ সেই খুশির খবর আর জানতে পারল না। আমরা চাই এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক। কোনো গড়িমসি বা ফাঁকফোকর আমরা মেনে নেব না।”
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রইছ উদ্দিন বলেন, “আগামী দুই দিন আমরা শোক দিবস, সভা ও র্যালি পালন করব। আমরা ১০ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিচ্ছি—যদি সন্তোষজনক অগ্রগতি না দেখি, তাহলে কঠোর কর্মসূচিতে যাব। আমার শিক্ষার্থীর পরিবারকে পাঁচ ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়েছে—এর জবাবদিহি চাই। আমরা কারও প্রতি নরম নই, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার এ বিষয়ে এক ইঞ্চি ছাড় দেবে না।”
উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, “আমরা শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের পাশে আছি। প্রকৃত অপরাধীরা ধরা না পড়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলনকারীদের পাশে থাকব এবং পুলিশ প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।”
এর আগে রোববার (১৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর বংশাল এলাকার নূরবক্স রোডে টিউশনি করতে গেলে বাসার নিচে ছুরিকাঘাতে আহত হন জোবায়েদ। তিনি সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে গিয়ে তিনতলায় পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।
জোবায়েদ হোসাইন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ছিলেন। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো ক্যাম্পাসে নেমে এসেছে শোক ও ক্ষোভের ছায়া। সহপাঠী, শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচার দাবি করেছেন।





