বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জনগণ আইনের শাসন এবং সুশাসনের প্রত্যাশা করে। আপনারা এমন দৃষ্টান্ত রেখে যাবেন, যেন ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকার সেই ইতিবাচক উদাহরণ অনুসরণ করে আরও ভালো কিছু করতে পারে।”


বুধবার (২৫ জুন) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আয়োজনে জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সদস্য সচিব কৃষিবিদ মকছেদুল মোমিন মিথুন এবং সঞ্চালনা করেন জাহিদুল ইসলাম রনি।


রিজভী বলেন, “বর্তমানে খুন-জখম, ডাকাতি, চুরি, হত্যা—এসব বেড়ে যাওয়ার কারণ কী? কেন এখনো জনগণ পুলিশের প্রতি আস্থাশীল নয়? এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব।”


তিনি বলেন, “২০০৭ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র ও জনতার অভ্যুত্থান–ভিত্তিক আন্দোলনের মূল প্রেরণাদাতা ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি লন্ডন থেকে নিয়মিত নির্দেশনা দিয়ে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। সেই আন্দোলনে ছাত্রদলসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বহু কর্মী গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে আত্মত্যাগ করেছেন।”


অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা প্রকৌশলী আশরাফউদ্দিন বকুল, মোস্তফা-ই জামান সেলিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


বিডিআর বিদ্রোহ (২০০৯) প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, “এই ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছিল, তদন্তকারীরা তা স্বীকার করছেন। কিন্তু বিশেষ কারণে নাম প্রকাশ করছেন না। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল—যা হয়তো তৎকালীন সরকার বা তাদের মদদদাতাদের স্বার্থে সংগঠিত হয়েছে।”


তিনি বলেন, “বাংলাদেশ যে স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছিল, সেই দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল না এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে সরকার জোর করে ক্ষমতায় থেকে বিভাজনের রাজনীতি চালায়। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ—এই সব কৃত্রিম বয়ান তৈরি করে দেশকে প্রতিনিয়ত বিভক্ত করে রাখা হয়েছিল।”