ইউরোপের দেশ সার্বিয়ায় আবারও হাজারো মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নেমেছেন। এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, শনিবার সার্বিয়ার নোভি সাদ শহরে বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা ডানপন্থি জাতীয়তাবাদী প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচের শাসনামলে চলমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। সমাবেশে সরকারকে ‘চোর’ আখ্যা দিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, তারা সার্বিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত করা এবং আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি করেছেন। ভুচিচ-পরবর্তী সরকারের জন্য তারা দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করা এবং তাদের সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রস্তাব দিয়েছেন।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, নির্বাচনে অংশগ্রহণের দাবিতে গত মাসে তারা প্রায় চার লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন। আয়োজকদের মতে, পরবর্তী বড় বিক্ষোভ সমাবেশ রাজধানী বেলগ্রেডে আগামী ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে সার্বিয়ার উত্তরের একটি শহরে রেলস্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনার পর থেকেই দেশজুড়ে নিয়মিত ছাত্রনেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ চলছে। এই দুর্ঘটনাকে দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় সাবেক নির্মাণমন্ত্রী গোরান ভেসিচসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তবে প্রমাণের ঘাটতির কথা বলে নোভি সাদের হাইকোর্ট গত মাসে ভেসিচের বিরুদ্ধে অভিযোগ খারিজ করে দেয়। একই সঙ্গে প্রকল্পে ইউরোপীয় ইউনিয়নের তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগে আলাদা তদন্তও চলছে।
বিক্ষোভের চাপের মুখে সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেন এবং তার সরকারের পতনের পর নতুন সরকার গঠিত হলেও প্রেসিডেন্ট ভুচিচ ক্ষমতায় বহাল রয়েছেন। তিনি বরাবরের মতোই দুর্নীতির সব অভিযোগ অস্বীকার করে আন্দোলনকারীদের ‘বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত অভ্যুত্থানচেষ্টাকারী’ বলে আখ্যা দেন। তার দল এসএনএসের নেতারাও দাবি করছেন, রেলস্টেশনের ছাদ ধসের ঘটনাটি পরিকল্পিত হামলা হতে পারে।





