পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফলে চুরির ঘটনায় অভিযুক্তকে আটকের সময় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে যুব অধিকার পরিষদের এক নেতার সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাসান মাহমুদ নিজেকে ভুক্তভোগী দাবি করে ফেসবুক লাইভে অভিযোগ করেন, বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান তাকে মারধর করেছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বেলা ১২ টার দিকে উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের কর্পূরকাঠি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় চুরির অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পূর্বে চুরির অভিযোগে ওই ব্যক্তিকে স্থানীয়রা আটক করে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চোর সন্দেহে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। তখন হঠাৎ বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন যুবকের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডা বেধে যায়। পরে থানার ওসি সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়া যুবকদের মধ্যে হাসান মাহমুদকেও আটক করেন পুলিশ। স্থানীয়দের অনুরোধে পরে তাকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং চোর সন্দেহে অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, কর্পূরকাঠি গ্রামে একাধিক চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে স্থানীয়রা আটক করেছেন—এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় যুব অধিকার পরিষদের নেতা পরিচয়ে হাসান মাহমুদ ও তার কয়েকজন অনুসারী চুরি কাণ্ডে অভিযুক্তকে আটক করতে বাধা সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে তারা পুলিশের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন। তখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আইনি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ওই নেতাকে আটক করার কথা বলা হয়, কিন্তু পরে স্থানীয়দের অনুরোধে তাকে আটক করা হয়নি। তবে ওই নেতাকে মারধরের বিষয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা ও মনগড়া। হাসান মাহমুদ কেন এমন অভিযোগ এনেছেন, তা আমার জানা নেই। এ বিষয়ে তিনি নিজেই ভালো বলতে পারবেন—বলেও মন্তব্য করেন ওসি।
এদিকে ঘটনার পরে যুব অধিকার পরিষদের নেতা মো. হাসান মাহমুদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ৫ মিনিট ৫৩ সেকেন্ডের একটি লাইভ ভিডিও বার্তা প্রচার করেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে ঝালকাঠি উপজেলার এক ছাত্রলীগ নেতা আত্মগোপনে থাকার উদ্দেশ্যে কর্পূরকাঠি গ্রামে আসেন। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে পুলিশকে জানালে পুলিশ ওই ছাত্রলীগ নেতাকে আটক না করে বরং তার পক্ষ নেন। এই ঘটনার জের ধরেই স্থানীয় একটি চুরির ঘটনাকে সামনে এনে বাউফল থানার ওসির নেতৃত্বে ১০–১২ জন পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে আসে এবং তার (হাসান মাহমুদ) ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাকে মারধরের পর পুলিশ তাকেই গ্রেফতারের চেষ্টা করে। তার হাতে হাতকড়াও পরানো হয়। তখন তাকে বাঁচাতে স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে তাদেরকেও মারধর করে পুলিশ। ঘটনার ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে স্থানীয় কয়েকজনের মুঠোফোন কেড়ে নেয় পুলিশ। গণ অধিকার পরিষদের নেতা হাসান প্রচারিত ভিডিওতে এ ঘটনার ন্যায়বিচারেরও দাবি জানান।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ও ট্রাক প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, দলীয়ভাবে সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় পুলিশ কোনো অপরাধ করলে এবং অন্যায়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হবে। পাশাপাশি আমাদের কোনো দলীয় কর্মীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে বাউফল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ মোহাম্মদ শাকুর বলেন, পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করেন। তবুও পুলিশের ভুল হলে বিষয়টি প্রতিবাদ করার সুযোগ আছে এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগও করা যায়। কিন্তু মাঠপর্যায়ে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া অপরাধ, এ ধরনের সংস্কৃতি থেকে জনগণকে বেড়িয়ে আসার আহবান জানান তিনি।





