পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির বিকল্প শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের লক্ষ্যে নির্বাচনী ময়দানে সক্রিয় হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। প্রকাশ্যে তারা আন্দোলনের কথা বললেও, নীরবে প্রায় ৩০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করে ভোটের মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছে দলটি। এর মধ্যে তরুণ ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রার্থীদের নিয়েই চমক দেখাতে চায় তারা।
দলীয় সূত্র জানায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এরইমধ্যে ২৯০টির বেশি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত অর্ধশতাধিক তরুণ প্রার্থীকে মনোনয়নের ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেওয়া হয়েছে। তাদের বড় একটি অংশ এবারই প্রথম জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন। দলটির কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত এখন নির্বাচনি প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নেতাকর্মীরা।
একাধিক প্রার্থী নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগে নেমে পড়েছেন। ভোটারদের কাছে তুলে ধরছেন উন্নয়ন পরিকল্পনা, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। একই সঙ্গে বিগত সরকারগুলোর আমলে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর চালানো দমন-পীড়নের চিত্রও জনসমক্ষে তুলে ধরা হচ্ছে।
তবে নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি জামায়াত এখনো তাদের পুরোনো দাবিতে অনড়। জুলাই সনদের বৈধতা, সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির নির্বাচনের দাবি এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কারের পক্ষে সোচ্চার রয়েছে দলটি। এসব দাবিতে একাধিক কর্মসূচিও পালন করেছে তারা। দলটির শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে বলছেন, দাবি পূরণ না হলে ‘নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না’।
তবুও মাঠের বাস্তবতায় জামায়াতের নীরব প্রস্তুতি স্পষ্ট। এবার তারা তরুণ ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রার্থীদের সামনে এনে ভোটের মাঠে চমক দেখানোর পরিকল্পনায় এগোচ্ছে।
দলটির একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেন, “আমরা চাই তরুণ নেতৃত্বের মাধ্যমে গণমানুষের আস্থা ফিরে পেতে। দেশের রাজনৈতিক শূন্যতায় জামায়াত জনগণের সামনে গ্রহণযোগ্য বিকল্প হয়ে উঠতে চায়।”
সামনের নির্বাচন কবে হবে—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও জামায়াতের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মকাণ্ডে স্পষ্ট, দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েই এগোচ্ছে।





