বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান ও ডেসটিনি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) হারুন-অর-রশিদ বীর প্রতীক-এর মরদেহ চট্টগ্রাম ক্লাবের গেস্ট হাউজ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুরে ক্লাবের ৩০৮ নম্বর কক্ষে তার মরদেহ পাওয়া যায়। ৭৭ বছর বয়সী হারুন-অর-রশিদ আগের দিন একটি মামলার শুনানিতে অংশ নিতে চট্টগ্রামে এসেছিলেন এবং ক্লাবের ওই কক্ষেই অবস্থান করছিলেন।

সকালে বারবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে সংশ্লিষ্টরা তার কক্ষে প্রবেশ করেন। বিছানায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় তাকে। পরে চিকিৎসকরা এসে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীন জানান, মামলার শুনানির জন্য হারুন-অর-রশিদ চট্টগ্রামে অবস্থান করছিলেন এবং এর আগেও বিভিন্ন সময় মামলার কারণে চট্টগ্রামে এসেছেন।

তার ফুপাতো বোন অধ্যাপক ডা. নুজিবুন্নাহার জানান, তিনি ডায়াবেটিস ও দীর্ঘদিনের হৃদরোগে ভুগছিলেন। অপরদিকে, তার বোনের জামাই বলেন, “আজ উনার আমার বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুপুরে জানতে পারি উনি আর নেই। ক্লাবে গিয়ে দেখি উনি বমি করেছেন। তার দীর্ঘদিনের হৃদরোগ ছিল।”

১৯৪৮ সালে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ধলই ইউনিয়নে জন্ম নেওয়া হারুন-অর-রশিদ মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বীর প্রতীক’ খেতাব লাভ করেন।

তিনি ২০০০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০০২ সালের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ফিজিতে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বও পালন করেন।

২০০৬ সালে তিনি ডেসটিনি গ্রুপে যোগদান করেন এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। ২০১২ সালে আর্থিক অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন এবং পরে জামিনে মুক্তি পান।

২০২২ সালে এক দুর্নীতি মামলায় চার বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তিনি। সাবেক সেনাশাসক এইচ এম এরশাদের পর তিনিই প্রথম সাবেক সেনাপ্রধান, যিনি আদালতের রায়ে দণ্ডিত হয়ে কারাবরণ করেন।

মরদেহের ময়নাতদন্ত ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা শেষে শেষকৃত্য বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানা গেছে।