রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে মাজারে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন ও পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত এসব গ্রেপ্তার করা হয় বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে স্থানীয় এক মসজিদের ইমাম লতিফও রয়েছেন। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। ভোরে মানিকগঞ্জের চর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
প্রেস উইং আরও জানিয়েছে, মাজার ভাঙচুর, সংঘর্ষ, লুটপাট এবং কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন ও পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় নিহত রাসেল মোল্লার বাবা মো. আজাদ মোল্লা বাদী হয়ে সোমবার রাতে মামলা করেছেন।
প্রসঙ্গত, নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগল গত ২৩ আগস্ট মারা যান। তার ভক্তরা দরবার শরিফের ভেতর তাকে দাফন করেন এবং কবরের ওপর ১০-১২ ফুট উঁচু একটি স্থাপনা নির্মাণ করেন। সেটি মক্কার কাবা শরিফের মতো দেখতে বলে স্থানীয়দের একাংশ আপত্তি জানায়।
এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। এর জের ধরে গত ৫ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের পর শত শত মানুষ দরবার শরিফে হামলা চালায়। এ সময় নুরাল পাগলের মরদেহ কবর থেকে তুলে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। পরে তার অনুসারীদের সঙ্গে স্থানীয় ‘ঈমান-আকিদা রক্ষা কমিটি’র লোকজনের সংঘর্ষ বাধে। এতে একজন নিহত এবং সাংবাদিকসহ অন্তত ২২ জন আহত হন।
পুলিশ ও প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেলে বিক্ষুব্ধরা ইউএনও, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ওসির গাড়ি ভাঙচুর করে। পাথর নিক্ষেপ ও মারধরে পাঁচ পুলিশ সদস্য এবং দুই প্রশাসনিক কর্মকর্তা আহত হন।





