ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় শত শত নারী গোলাপি পোশাক পরে এবং ঝাঁটা হাতে সংসদের সামনে বিক্ষোভ করেছেন। পুলিশি নিপীড়ন ও সরকারি ব্যয় অপচয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের জন্য এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে ইন্দোনেশিয়ান উইমেনস অ্যালায়েন্স (আইডাব্লিউএ), যা ৯০টি নারী সংগঠন, মানবাধিকার সংগঠন, শ্রম ইউনিয়ন ও আদিবাসী গোষ্ঠীর জোট।
মিছিলকারীরা বলছেন, ঝাড়ু তাদের রাষ্ট্রের ময়লা, সামরিকীকরণ এবং পুলিশি দমন-পীড়ন থেকে মুক্তির প্রতীক। তাদের ব্যানারে লেখা ছিল, ‘পুলিশ সংস্কার চাই’, ‘বিক্ষোভ অপরাধ নয়, নাগরিকের অধিকার’।
এই বিক্ষোভ দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি সংসদের সদস্যদের বিলাসবহুল সুবিধা নিয়ে জনদূর্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে। পুলিশের সাথে সংঘর্ষে গতকালে মোটরসাইকেল চালক আফফান কুরনিওয়ান নিহত হন, যা আন্দোলনের সহিংসতা বাড়ায়। আফফানের প্রতি সংহতি জানিয়ে অনেক বিক্ষোভকারী সবুজ পোশাক পরেছেন। অনলাইনে এই দুই রঙকে বলা হচ্ছে ‘হিরো গ্রিন’ ও ‘ব্রেভ পিংক’।
বিক্ষোভের প্রভাবের মধ্যে প্রেসিডেন্ট প্রাবৌ সুবিয়ান্তো এমপিদের কিছু সুবিধা কমানোর ঘোষণা দেন, তবে বিশ্লেষকরা এটিকে ‘প্রতীকী পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছেন। আইন সহায়তা ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শেষের বিক্ষোভে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন এবং ১,০৪২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের অনেকেই পুলিশের সহিংসতার শিকার। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর ‘ত্বরিত, নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ তদন্ত’ দাবি করেছে।
ইন্দোনেশিয়ার ইতিহাসে নারীদের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯৮ সালে স্বৈরাচারী শাসক সুহার্তোর পতনের সময়ও নারীরা রাজপথে নেমেছিলেন। এবারও তারা ‘পরিবর্তনের ঝাঁটা’ হাতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।





