রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডে মা ও মেয়েকে হত্যার ঘটনায় গৃহকর্মী আয়েশা (২০) এবং তার স্বামী রাব্বি শিকদারকে গ্রেফতার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। আয়েশাকে আটক করার পর হত্যার কারণ নিয়ে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
লায়লা আফরোজ এবং নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিয়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় সোমবার সকালে। পরে পুলিশ বুধবার ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার চরকয়া গ্রাম থেকে আয়েশা এবং তার স্বামীকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আয়েশা জানিয়েছে চুরির অভিযোগ তোলার কারণে ক্ষোভ থেকে সে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। তদন্ত–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, আয়েশা দাবি করেছে যে তাকে চুরির অপবাদ দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রতিশোধেই সে মা–মেয়েকে হত্যা করেছে।
পুলিশের আরও তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন বাসার মালামাল চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় লায়লা আফরোজ তাকে ধরে ফেলেন। তিনি পুলিশে ফোন করতে গেলে আয়েশা ধারালো ছুরি দিয়ে তাকে বারবার আঘাত করে হত্যা করে। মায়ের চিৎকার শুনে মেয়েটি ড্রয়িংরুমে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় মাকে দেখে। তখন তাকেও ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করে আয়েশা। এরপর দ্রুত স্কুলড্রেস পরে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
গ্রেফতারের সময় আয়েশার কাছ থেকে ৬ ভরি স্বর্ণ, একটি ল্যাপটপ, একটি মোবাইল ফোন এবং হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
মোহাম্মদপুর জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আয়েশাকে নলছিটি থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে ঢাকায় আনা হচ্ছে।
সুরতহাল প্রতিবেদনে দেখা যায়, নিহত লায়লা আফরোজের শরীরে প্রায় ৩০টি এবং তার মেয়ে নাফিসার শরীরে ৪টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল।





