মানবাধিকার সংস্থা অধিকার রাজশাহীতে মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজন করে গুম প্রতিরোধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশের প্রতিবাদ জানায়। বক্তারা বলেন, এই আইনগুলো বাতিল করলে দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
মানববন্ধনে বলা হয়, জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা ও সংশোধন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করেছে। এছাড়া জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫, দুর্নীতি দমন কমিশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশসহ ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বিল আকারে উত্থাপন না করার সুপারিশ করা হয়েছে। ফলে আগামী ১০ এপ্রিলের পর এসব অধ্যাদেশ কার্যকরতা হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গণভোটে ৬৮ শতাংশ মানুষের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের মাধ্যমে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গণগ্রেফতার ও নির্যাতন চালানো হয়েছে। তখন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছিল।”
তারা আরও বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনকেও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। “সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলোকে আইন হিসেবে পাস করা জরুরি। তবে তা বাতিল করলে পুরোনো কাঠামোয় ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।”
গুমের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে বক্তারা বলেন, “গুমের শিকার অনেকেই এখনও ফিরে আসেননি এবং তাদের পরিবার চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে। অথচ দলীয় নেতাকর্মীরাও যাদের গুমের শিকার হয়েছেন, সেই সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকেও গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ এসেছে।”
অধিকার’র রাজশাহী সমন্বয়ক সাংবাদিক মঈন উদ্দিন অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন, ডালিম হোসেন শান্ত, আসাদুজ্জামান আসাদ, আনোয়ার হোসেন ফিরোজ, আহসান হাবিব, এম শামিম, হুজাইফাসহ রাজশাহী জেলার অধিকার কর্মীরা। অধিকার’র বিবৃতি পাঠ করেন গুম থেকে ফিরে আসা ভুক্তভোগী আল আমিন হোসেন।
বক্তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান, অবিলম্বে এসব অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে পাস করতে হবে। তাদের মতে, মানবাধিকার ও সুশাসন নিশ্চিত না হলে দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।





