জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতির একটি খসড়া প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হয়। এতে গাজায় অবিলম্বে, নিঃশর্ত এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়েছিল। একই সঙ্গে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলের আরোপিত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং সেখানে মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়। এছাড়া গাজায় জিম্মি অবস্থায় থাকা ইসরায়েলি নাগরিকদের সম্মানজনকভাবে মুক্তি দেওয়ার বিষয়টিও প্রস্তাবে উল্লেখ ছিল।
নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য দেশের মধ্যে ১০টি অস্থায়ী সদস্য দেশ এই প্রস্তাবটি তুলেছিল। স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দিলেও বাকি ১৪টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। ফলে একক ভেটোর মাধ্যমে প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ষষ্ঠবারের মতো গাজা নিয়ে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ভেটো দিল।
এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক কূটনীতিক, মানবাধিকার কর্মী এবং ত্রাণ সংস্থা এটিকে আন্তর্জাতিক কূটনীতির বড় ধরনের ব্যর্থতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নীতি বিষয়ক উপদেষ্টা মরগান ওর্তাগাস ভেটোর পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, প্রস্তাবটিতে হামাসের নিন্দা করা হয়নি এবং ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। তার মতে, এটি হামাসের অবস্থানকে বৈধতা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।
তবে তার এ বক্তব্য নিরাপত্তা পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের অসন্তোষ প্রশমিত করতে পারেনি। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মানসুর ভেটোকে দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্তকারীরা ইতোমধ্যে গাজায় চলমান সহিংসতাকে জাতিগত নিধন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, অথচ নিরাপত্তা পরিষদ গাজাবাসীদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আমার বেনজামা বৈঠকের শুরুতে ফিলিস্তিনিদের কাছে ক্ষমা চান এবং রুয়ান্ডা ও বসনিয়ার অতীত ব্যর্থতার উদাহরণ তুলে ধরে সতর্ক করেন যে, নিরাপত্তা পরিষদ যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে।
\r\nপাকিস্তানের প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোকে ‘একটি অন্ধকার মুহূর্ত’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি পরিষদকে গাজায় চলমান মানবিক সংকট, গণচ্যুতি এবং দুর্ভিক্ষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বাধা দিয়েছে।
অন্যান্য প্রতিনিধিরাও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ডেনমার্কের প্রতিনিধি বলেন, এই ভোট ছিল শান্তির পক্ষে একটি বার্তা, যা যুদ্ধ, ক্ষুধা ও হতাশা থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার জন্য জরুরি ছিল। গায়ানার প্রতিনিধি গাজায় চলমান পরিস্থিতিকে জাতিগত নিধন বলে অভিহিত করেন এবং জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনের প্রাথমিক প্রতিবেদনকে উল্লেখ করেন।
চীন ও রাশিয়াও যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর সমালোচনা করে জানায়, একটি মাত্র দেশের সিদ্ধান্ত কীভাবে পুরো নিরাপত্তা পরিষদকে অকার্যকর করে দিতে পারে, এই ঘটনা তার স্পষ্ট উদাহরণ।





