ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি অবরোধ ও চলমান আগ্রাসনের কারণে ভয়াবহ মানবিক সংকটে থাকা গাজা উপত্যকায় অনাহারে মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হলো। গত ২৪ ঘণ্টায় ক্ষুধা ও অপুষ্টিজনিত কারণে গাজায় অন্তত ১৪ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছে দুই শিশু। সোমবার (২৮ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
এক বিবৃতিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে ক্ষুধা ও অপুষ্টিজনিত জটিলতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত অনাহারে প্রাণ হারানো মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৭ জনে, যাদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা ৮৮।
ইসরায়েল প্রায় ১৮ বছর ধরে গাজাকে স্থল, নৌ ও আকাশপথে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে গাজার সকল সীমান্ত পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় তারা, যা পরিস্থিতিকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক সমাজের যুদ্ধবিরতির আহ্বান উপেক্ষা করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
বিস্ময়কর মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে খাদ্য, পানি ও ওষুধের চরম সংকটে পড়েছে গাজাবাসী। অবরোধ ও টানা বিমান হামলায় গাজার অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।
এদিকে, গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক বিচারিক তদন্তের মুখোমুখি। ২০২৩ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। একইসঙ্গে গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও (আইসিজে) বিচারের মুখোমুখি হয়েছে। খবর: আনাদোলু এজেন্সি





