গাজা উপত্যকার গাজা শহরে ইসরায়েল দূরনিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরকভর্তি রোবট ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে তীব্র আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
গাজার বাসিন্দা হামজা শাবান জানান, জানালা দিয়ে তাকিয়ে তিনি প্রায় ১০০ মিটার দূরে একটি রোবট দেখেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই জোরালো বিস্ফোরণে তিনি জানালা থেকে ছিটকে পড়েন। হামজা বলেন, ‘আমি হামাগুড়ি দিয়ে শোবার ঘরের দিকে পালাচ্ছিলাম। শুনতে পাচ্ছিলাম ধ্বংসাবশেষের ভয়ঙ্কর শব্দ।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সেনা না পাঠিয়ে এসব রোবট মোতায়েন করছে। দূর থেকে নিয়ন্ত্রিত এসব আর্মার্ড ভেহিকল নির্দিষ্ট স্থানে পাঠানো হয় এবং পরবর্তীতে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। অনেক সময় এগুলো রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরক ফেলে রেখে একসঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটায়, যাতে সর্বোচ্চ ক্ষতি হয়।
শাবান জানান, সাধারণত রাত ১০টার পর থেকেই এসব বিস্ফোরণ শুরু হয়। প্রায় প্রতিরাতে ৮ থেকে ১০টি বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে শহর। তার ভাষায়, ‘এসব বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী যে পুরো ভবন মুহূর্তে ধসে পড়ে।’
গাজাভিত্তিক সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট থেকে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অন্তত ১০০টি বিস্ফোরক রোবট ব্যবহার করেছে ইসরায়েল। অলাভজনক সংস্থা ইউরো-মেডিটেরেনিয়ান হিউম্যান রাইটস মনিটরের দাবি, প্রতিটি রোবটে প্রায় সাত টন বিস্ফোরক থাকে এবং এর আঘাতে প্রতিদিন গড়ে ৩০০টি আবাসিক ইউনিট ধ্বংস হচ্ছে।
সংস্থাটির মতে, এই গতিতে হামলা চলতে থাকলে কয়েক মাসের মধ্যেই গাজা নগরীর বাকি অংশও ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। তাদের মন্তব্য, এটি মূলত “গাজাকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার পরিকল্পনা।”
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়ালা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এ ধরনের রোবটের ব্যবহার তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গাজায় আরও শত শত রোবট পাঠানো হচ্ছে। এগুলো ব্যবহার করে সরাসরি সংঘর্ষ এড়িয়ে ইসরায়েলি সেনাদের ঝুঁকি কমানো হচ্ছে, তবে একই সঙ্গে ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতি করা হচ্ছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই





