গাজা উপত্যকায় চলমান ইসরাইলি হামলায় একদিনেই আরও ৯৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর ফলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া হামলায় এখন পর্যন্ত মোট প্রাণহানির সংখ্যা পৌঁছেছে ৬৫ হাজার ৬২ জনে।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়, খবর দিয়েছে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু।
বিবৃতিতে বলা হয়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে ৯৮ জনের মরদেহ এবং ৩৮৫ জন আহত ফিলিস্তিনিকে আনা হয়েছে। তবে মৃত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেকেই এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন এবং উদ্ধারকাজ চালাতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জনবল সংকট রয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) গাজায় অভিযান শুরু করে। এখন পর্যন্ত এ হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৯৭ জন।
গত ১৯ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতায় দুই মাসের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল ইসরাইল ও হামাস। তবে ১৮ মার্চ সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে ফের অভিযান শুরু করে ইসরাইল। এর পর থেকে গত পাঁচ মাসে গাজায় নিহত হয়েছেন আরও ১২ হাজার ৫১১ জন, আহত হয়েছেন ৫৩ হাজার ৬৫৬ জন।
এদিকে মে মাসের শেষ দিক থেকে গাজায় খাদ্য ও ত্রাণ সংগ্রহ করতে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপরও হামলা চালিয়ে আসছে ইসরাইলি বাহিনী।
বুধবারও এমন একটি ঘটনায় ৭ জন নিহত ও ৮৭ জন আহত হয়েছেন। এভাবে মে মাসের পর থেকে ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৫০৪ জন এবং আহত হয়েছেন ১৮ হাজার ৩৪৮ জন।
এছাড়া গত ২ মার্চ থেকে গাজায় খাদ্য ও ত্রাণ সরবরাহ সীমিত করেছে ইসরাইল, যার ফলে সেখানে তীব্র খাদ্যাভাব ও অপুষ্টির সংকট দেখা দিয়েছে।
বুধবারও খাদ্য ও অপুষ্টিজনিত কারণে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত দুই বছরে ক্ষুধা ও অপুষ্টির কারণে মোট ৪৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৪৬ জনই শিশু।
এই মানবিক সংকটের প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বারবার ইসরাইলকে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানালেও তা উপেক্ষিত হয়েছে। ইতোমধ্যে ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গণহত্যার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।





