ফাঁস হওয়া এক অডিওতে ইসরায়েলের সাবেক সামরিক গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল অ্যারন হালিভাকে শোনা গেছে গাজায় হাজারো ফিলিস্তিনির মৃত্যুকে “প্রয়োজনীয় ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অপরিহার্য” হিসেবে উল্লেখ করতে।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এ প্রকাশিত রেকর্ডিংয়ে হালিভা বলেন, “৭ অক্টোবর, ২০২৩ সালে যা ঘটেছে, তার প্রতিটি মানুষের বিনিময়ে ৫০ ফিলিস্তিনির মরতে হবে।” তিনি আরও দাবি করেন, “গাজায় ইতোমধ্যেই ৫০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, আর এই সংখ্যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অপরিহার্য।”
রেকর্ডিংয়ের সময়কাল স্পষ্ট নয়, তবে মার্চে গাজায় নিহতের সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি হয়েছে। হালিভা বলেন, “কোনো বিকল্প নেই—তাদের মাঝে সময়ে সময়ে ‘নাকবা’র মুখোমুখি হতে হয়, যেন তারা মূল্যটা বুঝতে পারে।” (নাকবা বা ‘বিপর্যয়’—১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার সময় প্রায় ৭ লাখ ফিলিস্তিনিকে বিতাড়িত করার ঐতিহাসিক ঘটনা।)
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আক্রমণের সময় হালিভা সামরিক গোয়েন্দা প্রধান ছিলেন। ওই হামলায় ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫০ জন অপহৃত হন। এরপর ২০২৪ সালের এপ্রিলে তিনি পদত্যাগ করেন, প্রথম উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা হিসেবে।
চ্যানেল ১২ জানায়, রেকর্ডিংগুলো দীর্ঘ আলাপচারিতার অংশ, তবে হালিভার সঙ্গে কথা বলার ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। হালিভা এই আলোচনায় শুধু সেনাবাহিনীর নয়, ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতকেও দায় চাপান, যারা বিশ্বাস করেছিল হামাস বড় আকারে আক্রমণ চালাবে না।
হালিভা চ্যানেল ১২-কে বলেন, “এগুলো ছিল একটি বন্ধ বৈঠকে আংশিক কথাবার্তা, যা পুরো প্রেক্ষাপট তুলে ধরে না।”
ইসরায়েলের গাজা দখলের নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনা বাড়ছে। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন বলেন, নেতানিয়াহু বাস্তবতা থেকে সরে গেছেন এবং গাজা নগরী দখল সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন মন্তব্য করেন, “নেতানিয়াহুই এখন নিজেই একটি সমস্যা।”
হামাস এক বিবৃতিতে হালিভার মন্তব্যকে নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি প্রমাণ করে যে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে অপরাধগুলো ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বের উচ্চ পর্যায়ের নীতির অংশ।
জাতিসংঘের একটি বিশেষ কমিটি গত নভেম্বরে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড গণহত্যার বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। গত মাসে দুটি ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থাও একই অভিযোগ তুলেছে। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এসব অভিযোগকে “ভিত্তিহীন” বলে দাবি করেছে।