গাজার চলমান গণহত্যায় বাবা–মা হারানো একদল ফিলিস্তিনি এতিম শিশু অবশেষে সৌদি আরবে পবিত্র ওমরাহ পালনের সুযোগ পেয়েছে। দীর্ঘদিনের কষ্ট, শোক আর প্রতীক্ষার পর আজন্ম লালিত স্বপ্ন—পবিত্র কাবা শরীফ এক নজর দেখার আকাঙ্ক্ষা—বাস্তবে রূপ নিয়েছে তাদের জীবনে।

এই মানবিক উদ্যোগের পেছনে ছিলেন ব্রিটিশ পরোপকারী ফারাজ ইউসুফজাই ও একদল স্বেচ্ছাসেবী। কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজার ওই শিশুদের একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়, যেখানে তারা অত্যন্ত সহজ কিন্তু হৃদয়বিদারক কণ্ঠে বলেছিল, “আমরা শুধু একবার পবিত্র কাবা দেখতে চাই।”
শিশুদের সেই আকুতি গভীরভাবে নাড়া দেয় ফারাজ ইউসুফজাই ও তাঁর সহকর্মীদের। তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টায় অবশেষে শিশুদের সৌদি আরবে আনা সম্ভব হয়।

মক্কায় পৌঁছে প্রথমবার কাবা শরীফের সামনে দাঁড়ানোর মুহূর্তটি ছিল আবেগে ভরা। পবিত্র ঘরটি চোখের সামনে দেখেই অনেক শিশু কান্নায় ভেঙে পড়ে। যুদ্ধের ভয়াবহ স্মৃতি, হারানোর বেদনা আর দীর্ঘদিনের কষ্ট যেন সেই মুহূর্তে অশ্রুজলে মিশে যায়।

ওমরাহ পালনের সময় শিশুরা সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে গভীর মনোযোগ ও নিষ্পাপ হৃদয়ে প্রার্থনায় মগ্ন থাকে। কাবার আঙিনায় তাদের কান্না ও দোয়া আশপাশের হাজিদেরও আবেগাপ্লুত করে তোলে। যুদ্ধবিধ্বস্ত শৈশবের মাঝেও এই পবিত্র সফর তাদের জীবনে এনে দেয় কিছুটা প্রশান্তি ও আশার আলো।