আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে খুলনার ৬টি আসনের মোট ৮৪০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৬৬টিকে ঝুঁকিপূর্ণ বা ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। জেলা পুলিশ ও মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মোট কেন্দ্রে প্রায় ৬৭ শতাংশই এই তালিকায় রয়েছে। এসব কেন্দ্রে সুষ্ঠু ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের শরীরে ‘বডি ওর্ন’ ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মাদ জাহিদুল হাসান জানান, সাধারণ কেন্দ্রে ৩ জন পুলিশ ও ১৩ জন আনসার থাকবে, তবে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে পুলিশ সংখ্যা বাড়িয়ে ৪ জন করা হয়েছে। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে কর্মকর্তাসহ ৫ জন পুলিশ ও ১৩ জন আনসার মোতায়েন থাকবে।

আসনভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, খুলনা-৬ আসন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ, যেখানে ৮৩ দশমিক ২২ শতাংশ কেন্দ্র ‘গুরুত্বপূর্ণ’ তালিকায়। খুলনা-৩ আসনে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা তুলনামূলক কম, প্রায় ৪৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ। অন্য আসনের মধ্যে খুলনা-১ এ ৭৬টি, খুলনা-২ এ ১০৫টি, খুলনা-৪ এ ৯৫টি এবং খুলনা-৫ এ ৮৩টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য দুর্গম কেন্দ্রে মোবাইল পেট্রোলিং বাড়ানো হয়েছে এবং স্ট্রাইকিং রিজার্ভও মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও বিজিবি নিয়োজিত থাকবে। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আ.স.ম. জামশেদ খোন্দকার জানান, ৫৬৬টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে প্রায় ৫৫৮টিতে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে এবং ৩০০টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পুলিশ সদস্যদের বডি ক্যামেরার মাধ্যমে সরাসরি মনিটরিং করা হবে।

মাঠ পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১২০০ সেনা সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। প্রশাসনের আশা, এই আধুনিক প্রযুক্তি ও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।