বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সিটি স্ক্যানসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার রিপোর্ট স্বাভাবিক এসেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আগের তুলনায় তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। রিপোর্ট সন্তোষজনক হওয়ায় বিদেশে নেওয়ার বদলে দেশেই চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে মেডিকেল বোর্ড আলোচনা করছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।

বোর্ডের এক সদস্য বলেন, খালেদা জিয়ার বিভিন্ন প্যারামিটারে উন্নতি দেখা যাচ্ছে। সিটি স্ক্যান ও ইসিজিসহ করা সব পরীক্ষার ফল ভালো এসেছে। তিনি জানান, “দেশেই চিকিৎসা সম্ভব বলে আমরা মনে করছি। এর আগেও তিনি আরও জটিল অবস্থায় সুস্থ হয়েছেন। দোয়া চাই, এবারও হয়তো বিদেশ নেওয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে।”

সিসিইউতে কতদিন থাকতে হবে—এ প্রশ্নে চিকিৎসকের মন্তব্য, এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে তার শারীরিক উন্নতির ওপর। দেশি-বিদেশি চিকিৎসকরা সমন্বিতভাবে চিকিৎসা দিচ্ছেন। পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমান শয্যাপাশ থেকে চিকিৎসার সব দিক তদারকি করছেন। তিনি কয়েকদিন ঢাকায় থাকবেন।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খালেদা জিয়া কথা বলার চেষ্টা করছেন বলেও জানান চিকিৎসক। সার্বক্ষণিক দেখভাল করছেন তার ছোট ভাই, ভাবি এবং দুই পুত্রবধূ।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী বলেন, মেডিকেল বোর্ড বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত দিলেই লন্ডনে পাঠানো হবে। কাতার সরকার যে কোনো সময় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করতে প্রস্তুত। তিনি জানান, “আমি সকালে ম্যাডামকে দেখে এসেছি। আগের চেয়ে ভালো আছেন, সাড়া দিচ্ছেন। বোর্ডের সিদ্ধান্ত পেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়া হবে।”

মেডিকেল বোর্ড আগেই জানায়, প্রয়োজন হলে কাতারের আমিরের বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে লন্ডনে নেওয়া হবে। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, শুক্রবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় পৌঁছাবে। তবে কারিগরি ত্রুটির কারণে সেটি আসেনি। শনিবার বা রোববারও পৌঁছায়নি, ফলে আগমনের সময় এখনো অনিশ্চিত।

রোববার বিকালেও এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে দেখতে যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান। তিনি মেডিকেল বোর্ডের সদস্য হিসেবে চিকিৎসার সমন্বয়ে যুক্ত আছেন।

৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া ২৩ নভেম্বর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি আছেন। দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার, ফুসফুস, হৃদযন্ত্র ও চোখের বিভিন্ন জটিলতায় তিনি ভুগছেন। ভর্তি হওয়ার পর তার ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিসিইউতে নেওয়া হয়।

অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসা তদারক করছে।