স্ত্রী সাবিকুন্নাহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইসলামী বক্তা আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনান। সোমবার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, কোনো পরনারীর সঙ্গে তার কোনো প্রকার হারাম সম্পর্ক নেই।

আবু ত্বহা লিখেছেন, “কাবার রবের শপথ! আমি যিনাকার নই। মুহাম্মদের রবের কসম! আমি ব্যভিচারী নই। যার হাতে আমার প্রাণ, তার কসম—তারা আমাকে যত অপবাদ দিয়েছে, তা থেকে আমি মুক্ত। কোনো পরনারীর সঙ্গে আমার কোনো প্রকার হারাম সম্পর্ক নেই।”

স্ত্রীর অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, “স্বামী-স্ত্রী একে অন্যের জন্য মহব্বতের পবিত্র পোশাক। পোশাকের কাজই সতর ঢেকে রাখা, যদিও তা ক্ষতবিক্ষত হয়। স্বামী হিসেবে আমি আজীবন সেটাই করে গেছি, আজও করছি।”

তিনি আরও লেখেন, “আমার দ্বিন আমাকে শিখিয়েছে, কাউকে নিয়ে বাজে মন্তব্য না করতে। আমি চাই, আমার প্রতি করা অপবাদের জবাব মহান আল্লাহ নিজেই দিন। ক্ষমা করা বা শাস্তি দেওয়া শুধুই তাঁর এখতিয়ার।”

অভিযোগ প্রসঙ্গে ত্বহা বলেন, “আমাকে একের পর এক মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে। কাবার রবের শপথ! আমি যিনাকার নই, আমি ব্যভিচারী নই। হুজ্জাত ছাড়া কাউকে জিনার অপবাদ দিও না—এটা গুরুতর অপরাধ। এর শাস্তি ৮০ বেত্রাঘাত।”

স্ত্রীর প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি লেখেন, “আমার দোষ যদি হয়ে থাকে মাত্রাতিরিক্ত ভালোবাসা, ক্ষমা ও সবরের চেষ্টা, তাহলে সেটাই আমার ভুল। শরিয়তে যা হালাল, তাতে যদি কেউ রাজি না থাকে, সে উত্তমভাবে বিচ্ছেদ নিতে পারত। অতীত টেনে সম্পর্ক ও সম্মান নষ্ট করা উচিত হয়নি।”

সমাধানের উদ্যোগের কথা জানিয়ে ত্বহা বলেন, “আমি দেশের বরেণ্য ওলামায়ে কেরামের উপস্থিতিতে শরিয়াসম্মত ও আইনি প্রক্রিয়া মেনে সমাধানের পথে আছি। যারা ছেড়ে গেছেন, যেতে পারেন। তবে ভবিষ্যতে যদি মিথ্যা ইলজাম বা মামলার শিকার হই, অন্তত দরজাটা বন্ধ করে দিও না।”

নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি আরও লেখেন, “আমি নবী ইউসুফ বা মা আয়েশা নই। কিন্তু যিনা ও ব্যভিচারের যে মিথ্যা তহমত আমার ওপর দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। দয়া করে আমাকে, আমার পরিবার বা দ্বিনকে জড়িয়ে অনলাইন গরম কোরো না।”

সন্তানদের কথা উল্লেখ করে ত্বহা বলেন, “আমার দুটি সন্তান আছে—তারা যেন বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত না হয়, এই দোয়াই চাই। তাদের মুখের দিকেই তাকিয়ে বছরের পর বছর সবর করেছি।”

শেষে তিনি লেখেন, “এ বিষয়ে আমার আর কিছু বলার নেই। হয়তো কিছু বিচ্ছেদেই শান্তি থাকে। আল্লাহ যেন দুনিয়া ও আখিরাতে জালেম ও মজলুমের মধ্যে উত্তম ফয়সালা করেন।”