কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, এতে অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন—উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সোলায়মান চৌধুরী, গাড়িচালক মামুন, হাটবাইর গ্রামের মৃত মফিজুর রহমান খাঁনের ছেলে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজান খান, মিজানের মা আমেনা বেগম, বোন নাজমা ও নার্গিস, উপজেলা বিএনপির সদস্য মীর আহমেদ মীরু, আব্দুল হক খান, মনির চৌধুরী, ইয়াকুব আলী, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ছাত্রশিবির দক্ষিণের সভাপতি রিফাত সানি, বিজয় করা গ্রামের রবিউল হোসেন রকি, নোয়াগ্রামের জাকারিয়া রাসেল ও পায়েরখোলা গ্রামের মিলন।
আহত উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সোলায়মান চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, তিনি জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের বেতিয়ারা গ্রামে নির্বাচনী সভা করছিলেন। তখন খবর পান, পাশের হাটবাইর গ্রামে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মিজানের বাড়িতে ৫০–৬০ জন জামায়াতের লোক হামলা চালায়। তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সেক্রেটারির সঙ্গে মিজানের বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন, পথে স্থানীয় চৌধুরী বাজারে পৌঁছালে জামায়াতের সংঘবদ্ধ দল তাদের উপর হামলা চালায়। এ সময় তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়, তবে চালকের দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
চৌধ্দগ্রাম উপজেলা ছাত্রশিবির দক্ষিণের সভাপতি রিফাতুল ইসলাম সানি বলেন, তারা ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভা শেষে হাটবাইর গ্রাম হয়ে ফেরার পথে বিএনপির নেতাকর্মীদের গুলি ও দেশীয় অস্ত্রসহ হামলার শিকার হন।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন জানান, তাদের নেতাকর্মীরা জামায়াতের সমাবেশ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিএনপির মিজান খান, গাজী ইয়াছিন ও মোবারক চৌধুরীর নেতৃত্বে হামলার শিকার হন। এতে অন্তত ৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন জানান, খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি টিম ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং বিস্তারিত পরে জানানো হবে।





